ক্রমাগত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। মধ্যবিত্তের সংসার খরচ থেকে শুরু করে পরিবহণ ব্যয়— সব ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোলের সস্তা ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে ‘ই-৮৫’ জ্বালানিকে সামনে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, দেশে ধীরে ধীরে এমন এক জ্বালানি ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা পেট্রোলের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী। ই-৮৫ জ্বালানিতে থাকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল এবং ১৫ শতাংশ পেট্রোল। এই জ্বালানি ব্যবহারের জন্য বিশেষ ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়ির প্রয়োজন হয়, যা উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রণেও সহজে চলতে পারে।
কেন্দ্রের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন জ্বালানির খরচ কমবে, অন্যদিকে তেমনি ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতাও কমবে। বর্তমানে দেশে বিপুল সংখ্যক দু’চাকা ও চারচাকা যানবাহন রয়েছে। নতুন গাড়ির বড় অংশ যদি ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়, তবে ইথানলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
ইতিমধ্যেই একাধিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থা ফ্লেক্স-ফুয়েল মডেল বাজারে আনতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ই-৮৫ জ্বালানির জন্য বিশেষ ফুয়েল স্টেশন তৈরির কাজও শুরু হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে দিল্লি-এনসিআর ও পশ্চিম ভারতের গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলিতে এই পরিষেবা চালু হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ব্যয় হ্রাস, কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ, এই তিন লক্ষ্য পূরণে ই-৮৫ আগামী দিনে দেশের পরিবহণ ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।