নাগাল্যান্ডে বিষমদ পান করে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনা শনিবার প্রকাশ্যে আসতেই গোটা নাগাল্যান্ড জুড়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। গত দু’দিন ধরে বিষমদ খেয়ে মারা যাচ্ছেন মানুষজন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেটাই শনিবার ১৯ সংখ্যায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নাগাল্যান্ড রাজ্যকে ড্রাই স্টেট বলা হয়। সেখানে নাগাল্যান্ডেই আবার অবৈধ বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। যা নিয়ে এখন সরগরম এই রাজ্য। জানা গিয়েছে, গত দু’দিনে রাজ্যের মোককচুং এবং তুয়েনসাং জেলায় বিষমদ পান করে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তার মধ্যে মোককচুংয়ে ৮ জন এবং তুয়েনসাংয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বিষমদ খেয়ে।
এই বিষমদ কাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তদন্ত করতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই বুংলাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে তদন্তকারী দলটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিষমদের উৎস এবং সরবরাহের গোটা চক্রকে ধরতে তল্লাশি শুরু হয়ে গিয়েছে। নাগাল্যান্ড রাজ্যে ১৯৯০ সাল থেকে মদ নিষিদ্ধ। এখানে মদ বিক্রি হয় না। সেখানে বিষমদ এসে গেল কেমন করে? তাও আবার এত মানুষ পান করলেন কেউ জানতে পারল না? পুলিশের কাছে কেন খবর পৌঁছল না? উঠছে প্রশ্ন। কারণ পুলিশ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে এই বিষমদের রমরমা কারবার চলছে। এই ঘটনাই সেটা প্রমাণ করে। আগেও এই বিষমদের জেরে নাগাল্যান্ডে একাধিক মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
কোথাও থেকে যে মদ আসছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। এখন সেটার খোঁজে নেমেছে নয়া তদন্তকারী দল। নাগাল্যান্ড পুলিশের পুলিশ সুপার ভেসুপ্রা কেজো জানান, মৃতদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে নমুনা গুয়াহাটিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে কিছু সূত্র। তার উপর ভিত্তি করে চলছে তদন্ত প্রক্রিয়া। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এই অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকী ৩ হাজার বোতল মদও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই মদই মৃত্যুর কারণ কিনা সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তাছাড়া নাগাল্যান্ডের বিধানসভায় আবগারি দপ্তরের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বেআইনি মদের রমরমা কারবার চলছে। কোল্ড ড্রিঙ্কসের দোকানের আড়ালে এই কারবার চলছে বলে সূত্রের খবর। দিমাপুর এবং কোহিমায় এই কাণ্ড চলছে বলে জানা গিয়েছে। সীমান্ত দিয়েই মদ সেখানে ঢুকছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।