ফুকেট-দিল্লি রুটে বিমানের পাইলট গাঁজা খেয়ে বিমান চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই বিমানের পাইলটের দ্বিতীয় দফার ডোপ টেস্টের রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে। মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রক্তে গাঁজার উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। গোটা ঘটনাটি প্রাকাশ্যে আসার পরে কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা দিয়েছে। সরকার এয়ার ইন্ডিয়াকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অপারেশনাল নিরাপত্তার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। সংস্থাকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের তরফে ডিজিসিএ (DGCA)-কে পাইলটদের ডোপ পরীক্ষার কাঠামো পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠায় কেন্দ্র গোটা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। যাঁদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের অর্থাৎ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্র।
গত ৪ অগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 বিমানটি বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচে। ওই বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। জানা গিয়েছে, বিমানটি নির্ধারিত উচ্চতায় উড়ছিল। মাঝ আকাশে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি হয় বিমানে। তারপর আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। টার্বুলেন্সের জেরে বিমানের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিল্টবেল্ট বাঁধা না থাকায় বেশ কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু বিমানের ভিতরে ছিটকে পড়ে আহত হন।
ঘটনায় অন্তত ১৩ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনার সময়ে পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না। সেই সময়ে সহ-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ায় বিমানটি নেগেটিভ-জি পরিস্থিতিতে চলে যায়। ফলে পাইলট-সহ ককপিটে থাকা কিছু জিনিসও উপরে উঠে যায়। ঘটনার পর দুই পাইলটকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোস্টার থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
তদন্তকারীদের কাছে পাইলট যে বয়ান দিয়েছেন, সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ফুকেটে তিনি পর্যাপ্ত ঘুমোতে পারেননি। বেশ কিছুদিন ধরেও তাঁর ঘুমের সমস্যা হচ্ছিল। এর মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শে পাইলট ঘুমের ওষুধ খেতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এদিকে ডিজিসিএ-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনও পাইলট প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খেলে তা বিমান সংস্থাকে জানাতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে পাইলট সেটা জানিয়েছিলেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তবে ঘুমের ওষুধ খাওয়া, ঘুমের ঘাটতি ও মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ আসা এই তিনটি বিষয় কীভাবে যুক্ত, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।