রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে ওড়িশার কংগ্রেস বিধায়কদের ভাঙানোর চেষ্টা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। রবিবার তিনি দাবি করেন, বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি রিসর্টে থাকা কংগ্রেস বিধায়কদের ঘুষ দেওয়ার জন্য কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে পৌঁছেছিল। প্রত্যেক ভোটের জন্য ৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সামনে শিবকুমার জানান, ওড়িশা থেকে চারজন ব্যক্তি বেঙ্গালুরুতে এসে একটি রিসর্টে ঘর বুক করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি সুরেশ তাঁদের বুকিংয়ে সহায়তা করেছিলেন। ওই রিসর্টেই বর্তমানে ওড়িশার আটজন কংগ্রেস বিধায়ক অবস্থান করছেন।
শিবকুমারের দাবি, রবিবার সকালে ওই চারজনের মধ্যে কয়েকজন রিসর্টে ঢুকে এক বিধায়কের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রত্যেক ভোটের জন্য ৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁদের সঙ্গে দুটি চেকও ছিল বলে অভিযোগ। তবে কংগ্রেস বিধায়কেরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন পালিয়ে যায়। বাকি দু’জনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতরা নাকি স্বীকারও করেছে যে তারা ‘অপারেশন লোটাস’ চালানোর উদ্দেশ্যেই সেখানে এসেছিল। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
শিবকুমার সরাসরি বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন লোটাস’ চালানোর অভিযোগ তোলেন। যদিও এই বিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে ওড়িশা কংগ্রেস বিধানমণ্ডল দলের উপনেতা অশোক কুমার দাস রামনগর জেলার বিদাদি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস বিধায়কদের প্রভাবিত করতে চারজন ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিপুল অর্থের প্রস্তাব দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওড়িশায় শাসক বিজেপি অতিরিক্ত এক প্রার্থী দাঁড় করানোর পর থেকেই কংগ্রেস বিধায়কদের ভাঙানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই কারণেই নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১২ মার্চ থেকে আটজন কংগ্রেস বিধায়ক বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করছেন।
দাসের অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার ওই চার ব্যক্তি কয়েকজন বিধায়কের কাছে গিয়ে রাজ্যসভা নির্বাচনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিধায়কেরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি অশালীন ভাষায় গালিগালাজও করা হয়।
অভিযোগে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের মধ্যে বিরেন্দ্র প্রসাদ, সুরেশ, অজিত কুমার সাহু এবং সিমাচল মোহাকুদ রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।