ককরোচদের জয়, আন্দোলনের চাপে অবশেষে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

Image: ANI

ককরোচদের জয়। জেন জি-দের দীর্ঘ আন্দোলনের দাবি মানতে বাধ্য হল কেন্দ্রীয় সরকার। ককরোচ-রূপী পড়ুয়া আন্দোলনের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বিগত কয়েকদিন ধরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। আর এই আন্দোলনে প্রথম থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। পাশাপাশি ছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিও।

আজ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে নিজেই সরে দাঁড়ালেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘গত ১০ দিনের ঘটনায় আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত।’ যদিও জানা গিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও তাঁর পদত্যাগপত্র এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে বিগত কয়েকদিন ধরে দিল্লির রাজপথে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমে দেশজুড়ে ম্যারাথন আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। ককরোচদের আন্দোলনের জেরে ৪৭ দিন পর এ নিয়ে প্রথম মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেবল প্রধানমন্ত্রীই নন, জেন জি-দের এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বহু বিশিষ্ট মানুষ।

আজ শনিবার ককরোচদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকের কথা ছিল। তার জন্য নির্দিষ্ট সময়ও ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই নিজেদের প্রথম দাবি আদায়ে সফল হল ককরোচরা।


 

 

সিজেপির তরফে প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছিল। প্রথম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। দ্বিতীয় দাবি ছিল আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করা। তৃতীয় দাবি ছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে যে সকল পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রথম দাবিটি মেনে নেওয়া হলেও আপাতত বাকি দুই দাবির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।

এই আন্দোলনের শুরুতে ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে অনশনে বসেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনিও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে প্রায় ২৬ দিন অনশনে থাকার পর তিনি অনশন ভাঙেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল ককরোচরা।

আজ সিজেপির সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার তৃতীয় দফার বৈঠকের কথা ছিল। তবে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা কোনও আলোচনায় আগ্রহী নয়। অবশেষে ছাত্রদের সেই দাবি পূরণ হল।

এক্স হ্যান্ডলে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, ‘দেশের যুবদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভব ও আশা-প্রত্যাশার প্রতি আমি সম্মান জানাই। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের একটি নৈতিক অঙ্গীকার। দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’

নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি আরও লিখেছেন, ‘গত ১০ দিনের ঘটনায় আমার মন ভারাক্রান্ত। দেশের যুবশক্তিই আসল শক্তি। দেশের যুবশক্তি যাতে কোনও বিভ্রান্তিতে আটকে না পড়ে, সেটাই আমার একমাত্র সংকল্প।’

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবরে উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনস্থল। সেখানে বক্তব্য রাখেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একে গণতন্ত্রের জয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিট দুর্নীতির জেরে আত্মঘাতী পড়ুয়ারা এর মাধ্যমে বিচার পেলেন। তাঁদের স্মরণে নীরবতা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই পদত্যাগের পরেও তাঁদের আরও কয়েকটি দাবি বাকি রয়েছে,  আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, গত ২০ তারিখ যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পড়ুয়াদের উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এই আন্দোলনকে ঘিরে ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।