মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি, অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
জানা গিয়েছে, এই তদন্তে নেতৃত্ব দেন ইন্দোর গ্রামীণ অঞ্চলের ডিআইজি মনোজ কুমার সিং। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তিনি জানান, ‘প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলেও, সড়কে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবও বড় ভূমিকা নিয়েছে।’ পুলিশের এই পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট জাতীয় সড়কে কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছিল না। বাঁক বা মোড়ের আগে চালকদের সতর্ক করার মতো কোনও নির্দেশক চিহ্নও দেখা যায়নি। ফলে চালকরা সময়মতো গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ডিভাইডারের গঠনগত ত্রুটি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ডিভাইডারের ফাঁকগুলি বৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি হয়নি। বরং তা অত্যন্ত প্রশস্ত। এর ফলে যানবাহন হঠাৎ করে রাস্তা পার হতে পারছে, যা মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়েছে। এছাড়াও সড়কে প্রতিফলক চিহ্ন, লেন নির্দেশক দাগ এবং রাতের জন্য প্রয়োজনীয় আলোক নির্দেশকেরও অভাব ছিল। এই মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলির অনুপস্থিতি দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
এই সমস্ত ত্রুটির কথা ইতিমধ্যেই ভারতের জাতীয় সড়ক দপ্তরকে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কি না এবং যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। একটি পণ্যবাহী গাড়িতে প্রায় ৪৬ জন শ্রমিক ছিলেন। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অন্য গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়। ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬। এখনও বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের মতে, শুধু চালকের ভুল নয়, সড়কের পরিকাঠামোগত ত্রুটিও এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।