সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো ঝাড়খণ্ডে নির্জলা অনশন চালাচ্ছেন। এবার চার দিন ধরে চলা নির্জলা অনশন ভাঙলেন দেবেন্দ্র মাহাতো। শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনুরোধে বুধবার ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁর সামনে নুন-লেবুর জল পান করে অনশন ভাঙেন দেবেন্দ্র। তবে জল গ্রহণ করলেও এখনও অন্ন গ্রহণ করেননি তিনি। তাঁর দাবি, আন্দোলন জারি থাকবে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা জেপিএসসি এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন বা জেএসএসসি-র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলন শুরু করেছেন চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা। গত ২৯ জুলাই থেকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান চলছে। এরই মধ্যে ২ আগস্ট থেকে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো আমরণ অনশন শুরু করেন।
বুধবার দেবেন্দ্রর সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট ভিডিও কলে কথা বলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক তাঁকে অন্তত জল পান করার অনুরোধ জানান। মহাত্মা গান্ধীর অনশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘অনশন মানে আত্মহত্যা নয়। দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে যেতে শরীরকে সুস্থ রাখাও জরুরি।’
সোনমের পরামর্শের পর দেবেন্দ্র জানান, তিনি জল গ্রহণ করবেন। তবে সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনের জায়গায় এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে। ওয়াংচুক তাঁকে রাঁচিতে আসার আশ্বাস দেওয়ার পরই ভিডিও কলে তাঁর সামনে নুন-লেবুর জল পান করেন দেবেন্দ্র। পরে তিনি জানান, সোনম ওয়াংচুককে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন। তাঁর অনুরোধেই জল গ্রহণ করেছেন।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি তিনটি। প্রথমত, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত সিবিআই বা ইডির মতো নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে করাতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিল রাখতে হবে। তৃতীয়ত, গোটা নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার করে যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায়বিচার দিতে হবে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেপিএসসি, জেএসএসসি-সহ একাধিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়নে ত্রুটি এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আন্দোলনকারীরা জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আন্দোলনে নতুন করে আরও ৫ জন যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ জন মহিলা রয়েছেন। আন্দোলনের মধ্যে এক তরুণীর বক্তব্যও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৩-এর উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৯.১৭৫ পেয়েও তিনি চাকরি পাননি। বছরের পর বছর পড়াশোনা করেও চাকরি না পাওয়ার হতাশা প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রথমবার প্রকাশ্যে এই আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের কাছে সিআইডি তদন্তের রিপোর্ট আসার অপেক্ষা রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। এদিকে, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সিআইডি ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে। জেপিএসসি-ও ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’র কারণ দেখিয়ে ২৫ থেকে ২৭ জুলাই নির্ধারিত সিভিল সার্ভিসেস মেইনস পরীক্ষার সূচি স্থগিত করে দেয়। নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলন এখন জাতীয় স্তরেও আলোচনার কেন্দ্রে।