ইরানি উপরাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠাল দিল্লি

File Photo

হরমুজে ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় এবার দিল্লির ইরানির দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠাল মোদী সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (উপরাষ্ট্রদূত) মুহাম্মদ জাভেদ হুসেনিকে বিদেশ মন্ত্রকে তলব করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে ইরানের হামলায় দু’টি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ছয় ভারতীয় আহত হয়েছেন।

এর আগেও গত রবিবার ওমান উপকূলের কাছে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ হামলার মুখে পড়েছিল। সেই জাহাজে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও এক জন নিখোঁজ। ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিল ভারত।

তবে তখন ইরানি দূতাবাসের কোনও কূটনীতিককে তলব করা হয়নি। দু’দিনের ব্যবধানে আবার হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিক থাকা দু’টি জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠল ইরানের বিরুদ্ধে। এবার কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্র। দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের ডেপুটি চিফ অব মিশন মুহাম্মদ জাভেদ হুসেনিকে বিদেশ মন্ত্রকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।


বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘নিরীহ নাবিকদের লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা এবং হিংসাত্মক কাজের নিন্দা জানাই। এই ঘটনা হরমুজ প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল ব্যাহত করছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাত শুরু হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।‘ হিংসা বন্ধ করে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছে দিল্লি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা বন্ধ করতে হবে। যাতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই জলপথে অবাধ নৌ-চলাচল ও বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করা যায়।‘

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দাবি, মঙ্গলবার ভোরে ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ নামে দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য কর ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। হামলার সময় জাহাজ দু’টি ওমানের জলসীমায় ছিল। ‘মোম্বাসা’ জাহাজেই নিহত ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই ট্যাঙ্কারেই আগুন ধরে গেলেও পরে নাবিকদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এই হামলাকে ‘নির্লজ্জ’ আক্রমণ বলে তীব্র নিন্দা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। তাদের বক্তব্য, এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রিভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দু’টি ‘সুপারট্যাঙ্কা’র আক্রমণের শিকার হয়ে অকেজো পড়ে রয়েছে। তবে তারা কোনও জাহাজের নাম প্রকাশ করেনি।

আইআরজিসি-র দাবি, হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করে জাহাজ দুই নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে মাইন পাতা একটি পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেই কারণেই তাদের লক্ষ্য করে হামাল চালানো হয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যে ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ জাহাজের কথা বলছে, আইআরজিসি-র বিবৃতিতে উল্লেখিত ‘সুপারট্যাঙ্কার’ সেই একই জাহাজ কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি ইরনের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘অবৈধ’ চলাচলে জাহাজগুলিকে উস্কানি দিচ্ছে আমেরিকা।