দিল্লিতে ধর্ষণ, তিন কন্যার মুখ মনে করিয়ে কাঁদছিলেন মা, তবু থামেনি অত্যাচার

প্রতীকী চিত্র

বাড়িতে অপেক্ষা করছিল তিনটি ছোট্ট মুখ। বয়স মাত্র ৪, ৬ এবং ৯। অসুস্থ স্বামী বিছানায়। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব প্রায় একার কাঁধেই ছিল ওই মহিলার। ভাইয়ের বাড়িতে সাহায্য করতে গিয়েছিলেন তিনি। কাজ সেরে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে যে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, তা কোনও দিন কল্পনাও করেননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতানপুরী এলাকায় দাদার বাড়িতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। দাদা নতুন বাড়িতে উঠছিলেন। সেই কারণেই সাহায্যের জন্য গিয়েছিলেন তিনি। কাজ মিটিয়ে একটি টোটোয় চেপে সরস্বতী বিহার বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছন নির্যাতিতা। সেখান থেকেই বাস ধরে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর।

নির্যাতিতার অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে সময় জানতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় একটি প্রাইভেট বাসে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। পরে তিনি বাসে উঠতেই সেটি চলতে শুরু করে। অভিযোগ, কিছু দূর যাওয়ার পর বাসের ভিতরে থাকা কয়েকজন তাঁকে জোর করে ভিতরের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং নির্যাতন চালায়।


নির্যাতিতা জানিয়েছেন, তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করলে মুখ চেপে ধরা হয়। বারবার হাতজোড় করে অভিযুক্তদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন তাঁকে ছেড়ে দিতে। কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, বাড়িতে তাঁর তিনটি ছোট মেয়ে অপেক্ষা করছে। অসুস্থ স্বামীর দেখাশোনাও তাঁকেই করতে হয়। কিন্তু সেই আর্তি উপেক্ষা করেই অত্যাচার চলতে থাকে বলে অভিযোগ।

পরে নাংলোই স্টেশনের কাছে বাস থামলে আরও এক চালক তাঁর উপর অত্যাচার চালায় বলেও অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা। তিনি বলেন, ‘আমি ওঁদের বলেছিলাম, আপনাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানাব না। দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন।’ শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা তাঁকে ছেড়ে দিলে কোনওভাবে পুলিশে ফোন করেন তিনি।

পুলিশ পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পিতমপুরার একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলেও পরিবারের কথা ভেবে ভর্তি হতে চাননি নির্যাতিতা। তাঁর কথায়, ‘আমার স্বামী অসুস্থ। মেয়েরা বাড়িতে একা ছিল। তাই হাসপাতালে থাকতে পারিনি।’

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় বাসচালক এবং কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। ধৃত দু’জনই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। আদালতের নির্দেশে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাসের রুট, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনা ফের রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। প্রতিদিনের সংগ্রামে লড়াই করা এক মহিলার জীবনে এই নৃশংস অভিজ্ঞতা শুধু একটি অপরাধ নয়, একটি পরিবারের অস্তিত্বের উপর আঘাত বলেই মনে করছে সমাজের একাংশ।