দিল্লি এবং সংলগ্ন অঞ্চলে বায়ুদূষণের (Air Pollution) পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতিতে বাতাসের গুণমান নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা সিএকিউএম (Commission for Air Quality Management) একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকাগুলির সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসে অর্ধেক কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম (Work From Home) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উৎসবের মরসুমে দূষণের মাত্রা যাতে বিপজ্জনক স্তরে না পৌঁছয় সেই কারণেই এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।
কোন কোন এলাকায় প্রযোজ্য এই নিয়ম
সিএকিউএম নির্দেশিকা অনুযায়ী সম্পূর্ণ জাতীয় রাজধানী অঞ্চল বা এনসিআর (National Capital Region) এলাকায় এই নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ করা হবে। বিশেষ করে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ ও সোনিপথ এবং উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ ও গৌতম বুদ্ধ নগর অর্থাৎ নয়ডা অঞ্চলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে সরকারি এবং বেসরকারি সমস্ত অফিসকেই তাদের মোট কর্মীর সর্বাধিক পঞ্চাশ শতাংশকে অফিসে আসার অনুমতি দিতে হবে। বাকি কর্মীদের এই পনেরো দিন বাড়ি থেকেই কাজ করতে হবে। তবে যে সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে কাজ করা বাস্তবসম্মত নয় তাদের এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
কেন এই সতর্কতা
কমিশনের পেশ করা ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে প্রতি বছর নভেম্বরের প্রথম এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার বাতাসের গুণমান সূচক বা একিউআই (Air Quality Index) সবচেয়ে খারাপ স্তরে পৌঁছয়। এর পিছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত এই সময়ে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় ফসলের অবশিষ্টাংশ বা নাড়া পোড়ানোর কারণে প্রচুর ধোঁয়া তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত আগামী ৮ নভেম্বর দীপাবলির কারণে বাজি পোড়ানোর জেরে দূষণের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তৃতীয়ত শীতের শুরুতে বাতাসের গতিবেগ কমে যাওয়ার কারণে স্থানীয় ধুলোবালি এবং গাড়ির ধোঁয়া সহজে সরে যেতে পারে না। এই তিনের মিলিত প্রভাবে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে।
নির্মাণকাজেও কড়া বিধিনিষেধ
অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি কমানোর পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে পুরো এনসিআর এলাকায় এমন সমস্ত নির্মাণ ও ভাঙার কাজের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যেগুলি থেকে ধুলো উড়তে পারে। হাইওয়ে তৈরি থেকে শুরু করে যে কোনও ধরনের খোলা জায়গায় নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে রেল, মেট্রো, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, জল সরবরাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো জরুরি জনপরিষেবামূলক প্রকল্পগুলিকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এই নির্দেশিকা অমান্য করলে ভারী জরিমানার মুখে পড়তে হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে