আরব দেশগুলিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্য চালু করল হেল্পলাইন দিল্লি

ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আঘাত ও পাল্টা আঘাতে প্রাণহানি হয়েছে বহু মানুষের। কোনও দেশই থেমে না থাকায় পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিশেষ করে আরব দেশগুলিতে আটকা পড়ে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক ভারতীয়, যাঁদের দেশে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। ভারতীয়রা যে হেল্পলাইনগুলিতে যোগাযোগ করতে পারেন সেগুলি হল টোল-ফ্রি নম্বর : ১৮০০-১১৮-৭৯৭ এবং ল্যান্ডলাইন: ০১১-২৩০১২১১৩ / ০১১-২৩০১৪১০৪ / ০১১-২৩১০১৭৯০৫ ।

এছাড়া, বাহরিন, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত-সহ বিভিন্ন দেশের ভারতীয় দূতাবাসের জরুরি নম্বরও চালু রয়েছে।


বাহরিন – +৯৭৩ ৩৯৪১ ৮০৭১
ইরান
 +৯৮ ৯১২৮১০৯১১৫ / +৯৮ ৯১২৮১০৯১০২ / +৯৮   ৯১২৮১০৯১০৯
ইরাক  +৯৬৪ ৭৭১ ৬৫১ ১১৮৫ / +৯৬৪ ৭৭০ ৪৪৪ ৪৮৯৯
ইজরায়েল  +৯৭২ ৫৪ ৭৫২০৭১১ / +৯৭২ ৫৪ ২৪২৮৩৭৮
জর্ডন  +৯৬২ ৭৭০ ৪২২ ২৭৬
কুয়েত  +৯৬৫ ৬৫৫০ ১৯৪৬
লেবানন  +৯৬১ ৭৬৮৬০১২৮
ওমান  +৯৬৮ ৯৮২৮২২৭০ হোয়াটসঅ্যাপ / ৮০০৭১২৩৪ (টোল   ফ্রি)
কাতার  +৯৭৪ ৫৫৬৪৭৫০২
রামাল্লাহ, প্যালেস্তাইন  +৯৭০ ৫৯২৯১৬৪১৮

 

সৌদি আরব (রিয়াদ) +৯৬৬ ১১ ৪৮৮৪৬৯৭ / ৮০০ ২৪৭ ১২৩৪ (টোল ফ্রি)
সৌদি আরব (জেড্ডা) +৯৬৬ ১২ ৬৬৪ ৮৬৬০ / +৯৬৬ ১২ ২৬১৪০৯৩
সংযুক্ত আরব আমিরাত +৯৭১ ৫৪৩০৯০৫৭১ (হোয়াটসঅ্যাপ) / ৮০০ ৪৬৩৪২ (টোল ফ্রি)

ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তেহরানে থাকা অধিকাংশ ভারতীয় ছাত্রছাত্রীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। ছাত্রদের পরিবহণ, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও কিছু ছাত্রছাত্রী জায়গা পরিবর্তন করতে না চাওয়ায় সেই সব শহরেই থেকে গিয়েছেন।

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ প্রায় বন্ধ। দুবাই, দোহা-সহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভারতীয়রা আটকা পড়েছেন। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় বাণিজ্যও প্রভাবিত হয়েছে।সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। ইরানে প্রায় ১০ হাজার, ইজরায়েলে প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয় থাকলেও আরব দেশগুলিতে মোট ভারতীয়র সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। অতীতেও ইয়েমেন ও ইরাকের সংঘাতের সময় ভারতের এই ধরনের উদ্ধারের কার্যক্রম সফল হয়েছে। 

এদিকে হামলার জবাবে ইরানের পালটা হামলায় গালফের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ চালানো হয়। কুয়েত, বাহরিন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কয়েকটি দেশের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই হামলায় সামরিক ও অসামরিক উভয় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা প্রতিরক্ষা অভিযান শুরু করেছে। নৌবাহিনী-সহ বিভিন্ন বাহিনী সতর্ক রয়েছে।মনে করা হচ্ছে গত কয়েক দশকের সব থেকে ভয়াবহ দুই দেশের এই সংঘর্ষ ।