দূষণে ঢেকেছে রাজধানী, দিল্লি-এনসিআর-এ বাজি পোড়ানোর অনুমতি শীর্ষ আদালতের

Photo: দিল্লি-এনসিআর-এ বাজি পোড়ানোর অনুমতি শীর্ষ আদালতের (AI)

সামনেই দীপাবলি। বাজি ও আলোর উৎসব। এদিকে দিল্লির বাতাসের গুণমান অতি খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দীপাবলির আগে দিল্লি-এনসিআর-এ বাজি বিক্রি ও পোড়ানোর ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে শর্তসাপেক্ষে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি বরালের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্ত মেনে সবুজ বাজি পোড়ানো যাবে। তবে ৯ নভেম্বর থেকে ফের কার্যকর হবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। আদালতের বক্তব্য, আগের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেও দিল্লির বায়ুদূষণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তার বদলে বেআইনিভাবে বাজি বিক্রি ও ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

অনেকক্ষেত্রে সাধারণ বাজি সবুজ বাজি বলে বিক্রি করা হচ্ছে। তাই আপাতত সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে শর্ত মেনে বাজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ২-৬ নভেম্বর পর্যন্ত শুধুমাত্র সিএসআইআর-এনইইআরআই (CSIR-NEERI) এবং পিইএসও (PESO)-র বৈধ শংসাপত্রপ্রাপ্ত সংস্থাগুলি অনুমোদিত সবুজ বাজি তৈরি করতে পারবে। কেবল এনইইআরআই-র ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত বাজিই বিক্রি করা যাবে।


প্রতিটি বাজির বাক্সে বাধ্যতামূলকভাবে পৃথক কিউআর কোড থাকতে হবে। সেই কোড স্ক্যান করে প্রস্তুতকারক সংস্থা, লাইসেন্স ও পরীক্ষার শংসাপত্রের তথ্য জানা যাবে। অনলাইনে বাজি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের নির্ধারিত জায়গাতেই বাজি বিক্রি করা যাবে। হাসপাতাল, নার্সিংহোম, স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বৃদ্ধাশ্রম ও ফাঁকা জায়গায় ৩০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো যাবে না। গত বছরও পরীক্ষামূলকভাবে দীপাবলির সময় নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য দিল্লি-এনসিআরে সবুজ বাজি বিক্রি ও পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

আদালত জানিয়েছে, নিয়ম ভাঙলে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিল ও বাজি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাবে। দূষণের প্রভাব বুঝতে ২ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বায়ুর গুণমানের তথ্য সংগ্রহ করবে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)। এর পাশাপাশি হাসপাতালগুলিতে দূষণের কারণে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ও তাতে মৃত্যুর তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

আরও পড়ুন: দূষণ রুখতে নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধের প্রথম দিনেই দিল্লিতে ৬৮.৪ লক্ষ টাকা জরিমানা

দীপাবলির গুরুত্ব স্বীকার করে আদালত জানিয়েছে, দূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে উৎসবের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এই মামলার সূত্রপাত ২০১৫ সালে। শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দিল্লি-এনসিআর-এ বাজি বিক্রি ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হয়েছিল। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।