ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় কাজলের পাশে দিল্লি হাইকোর্ট

ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় বড় জয় পেলেন বলিউড অভিনেত্রী কাজল। তাঁর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর এবং পরিচয়ের অন্য কোনও উপাদান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না— এই মর্মে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

বিচারপতি জ্যোতি সিংহের একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে একাধিক সংস্থা, ই-বাণিজ্য মঞ্চ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এআই চ্যাটবট সংস্থা এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। কাজলের তরফে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে, বিকৃত ছবি এবং এআই-নির্মিত ভুয়ো ছবি ছড়ানো হচ্ছে, এমনকি অশালীন এআই চ্যাটবট ও ডিপফেক সামগ্রীও তৈরি করা হয়েছে।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কাজল ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের মাধ্যমে তিনি বিপুল সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই কারণে তাঁর নাম ও ব্যক্তিত্ব বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান এবং আইনের মাধ্যমে সুরক্ষার অধিকারী।


আদালত স্পষ্টভাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। কোনও সংস্থা বা ব্যক্তি কাজলের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা পরিচয়ের কোনও অংশ এআই, ডিপফেক, জেনারেটিভ এআই বা অন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবে না। ই-বাণিজ্য মঞ্চগুলিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেআইনি পণ্য সরিয়ে ফেলতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও মঞ্চগুলিকে আপত্তিকর পোস্ট ও ভিডিও মুছে ফেলতে হবে এবং অভিযুক্তদের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। টেলিযোগাযোগ দপ্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে আপত্তিকর ওয়েবসাইট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের বেআইনি ব্যবহার চলতে থাকলে কাজলের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং ডিপফেকের অপব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এই ধরনের মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ২৩ এপ্রিল। আদালতের এই নির্দেশ ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।