মোদীর বিদেশ সফরের খুঁটিনাটি তথ্য জানার অধিকারের আওতায় থাকবে না, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বড় রায় দিল্লি হাইকোর্টের

Delhi High Court Exempts PM Modi Flight Records From RTI (Image: X/@Mahaveer_VJ)

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi)  বিমানে বিদেশ সফরের তথ্য ‘রাইট টু ইনফরমেশন’ বা আরটিআই (RTI)-এর আওতায় প্রকাশ করা যাবে না। জাতীয় নিরাপত্তা (National Security) এবং প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। ২০২০ সালে সেন্ট্রাল ইনফরমেশন কমিশন বা সিআইসি (CIC) বায়ুসেনাকে এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ এবার সরাসরি খারিজ করে দিল উচ্চ আদালত।

কী জানাল দিল্লি হাইকোর্ট?

বিচারপতি অমিত মহাজনের সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে ব্যবহৃত ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের (Indian Air Force) বা আইএএফ (IAF) বিমানের তথ্য প্রকাশ করলে তা দেশের সুরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমনকি নিরাপত্তা আধিকারিকদের নাম বাদ দিয়ে বা সেন্সর (Redaction) করেও যদি এই স্পেশাল ফ্লাইট রিটার্নস (Special Flight Returns বা SFR-II) প্রকাশ করা হয়, তবুও তা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমানের গতিবিধির খুঁটিনাটি প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কা থাকে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তথ্য জানার অধিকারের (Right to Information) চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর জীবনের সুরক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


কেন এই তথ্যে গোপনীয়তা?

আরটিআই আইনের ৮(১)(এ) এবং ৮(১)(জি) ধারা অনুযায়ী (RTI Act Exemptions) বেশ কিছু তথ্যে গোপনীয়তা বজায় রাখার সংস্থান রয়েছে। বায়ুসেনার তরফে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরের নথিতে বিমানের ধরন, যাত্রীদের সংখ্যা, সফরসঙ্গীদের পরিচয়, বিমানের রুট এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-র (SPG) নিরাপত্তার বিন্যাস সংক্রান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য থাকে। এই তথ্য সাধারণের নাগালে এলে তা বিশ্লেষণ করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রোটোকলের একটি নিখুঁত ছক তৈরি করে ফেলা সম্ভব, যা দেশের সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। আদালত এই যুক্তি পুরোপুরি মেনে নিয়েছে।

কী ছিল মামলার প্রেক্ষাপট?

অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা আধিকারিক কমোডর লোকেশ কে বাত্রা এই আরটিআইটি (RTI Application) দাখিল করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ৫ জুনের মধ্যে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে কোন কোন সাধারণ নাগরিক বা সরকারি পদাধিকারী সরকারি খরচে যাতায়াত করেছেন, তা সাধারণ মানুষের জানা উচিত। জনস্বার্থের (Public Interest) এই যুক্তিতেই সিআইসি (CIC) তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট জানিয়েছে, সরকারি খরচের হিসাব জানার অধিকার থাকলেও, তার জেরে প্রধানমন্ত্রীর জীবন বিপন্ন হতে পারে এমন কোনও ঝুঁকি নেওয়া যায় না।