CJP নেতাদের গ্রেফতারি মামলা: ফ্রান্সের ছাত্র বিক্ষোভের উদাহরণ দিল দিল্লি হাই কোর্ট, ব্যারিকেড ভাঙা নিয়ে প্রশ্ন

Image: SNS

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ফ্রান্সের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠে এল দিল্লি হাই কোর্টে। বুধবার শুনানির সময় আদালত জানায়, বিক্ষোভস্থলে পুলিশ মোতায়েনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র প্রতিবাদকারীদের আটকানো নয়। ভিড়ের মধ্যে অন্য কেউ ঢুকে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, যন্তর মন্তরকে ইতিমধ্যেই নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও সেখানে কেন ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতিরা বলেন, ব্যারিকেডের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। কেউ তা ভেঙে ভিতরে ঢুকলে সেখানে আরও অনেক মানুষের জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই ভিড়ের উপর আন্দোলনের আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে।

শুনানির সময় ফ্রান্সে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের উদাহরণও তুলে ধরে হাই কোর্ট। ওই আন্দোলনের সময় হিংসা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।


উল্লেখ্য, CJP নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা। তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে করা মামলার শুনানি চলাকালীনই এই পর্যবেক্ষণ আদালতের।

যুব আন্দোলন সামলাতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্বেগ

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র ও যুব আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলা যুব বিক্ষোভে পুলিশ অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ করেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও লাঠিচার্জ, ধরপাকড় এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞদের একটি দল সম্প্রতি দিল্লিতে সাত হাজারেরও বেশি যুবক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীকে আটক করার অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। পাশাপাশি, বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

SIR ঘিরেও বিক্ষোভ, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব CJP

গত কয়েক মাসে শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ক্রমশ বড় আকার নিয়েছে। এর মধ্যেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার প্রভাব প্রায় ১৩ কোটি মানুষের উপর পড়তে পারে। তাঁদের মধ্যে মুসলিম, তফসিলি জাতি এবং তফসিলি জনজাতির মানুষও রয়েছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এসআইআরের প্রতিবাদে CJP এবং একাধিক ছাত্র সংগঠন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে ভুলত্রুটি দূর করে তালিকাকে আরও নির্ভুল করতেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

CJP নেতাদের গ্রেফতারি মামলা, বিক্ষোভস্থলে ব্যারিকেড ভাঙা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্বেগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।