রাজধানীর তুর্কমান গেট এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১২ জন অভিযুক্তকে জামিন দিল দিল্লির একটি আদালত। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিযুক্তদের সাময়িক স্বস্তি মিললেও তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল। শুনানির সময় অভিযুক্তদের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতায় জড়িত থাকার কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখা অযৌক্তিক। আদালত মামলার নথি এবং যুক্তি খতিয়ে দেখে জামিন মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, অনভিপ্রেত এই ঘটনাটি ঘটে দিল্লির ঐতিহাসিক তুর্কমান গেট এলাকায়, যেখানে স্থানীয় কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, সহিংসতা ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা করছেন।
আদালত অবশ্য জামিন দেওয়ার সময় অভিযুক্তদের কয়েকটি শর্ত মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তদন্তে সহযোগিতা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্তকারী দপ্তরের সামনে হাজির হওয়া এবং কোনওভাবে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা না করা। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জামিন দেওয়া মানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ হয়ে যাওয়া নয়, বরং বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনের প্রতিফলন। একইসঙ্গে, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পর আদালতই চূড়ান্তভাবে অভিযুক্তদের দায় বা নির্দোষ প্রমাণ করবে।