দীপাবলির সকালেই ভয়ঙ্কর দূষণে ঢাকল রাজধানী দিল্লি। রবিবার সকালে শহরের সামগ্রিক বায়ুর গুণমান সূচক পৌঁছল ৩৮৪-তে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য বলছে, পরিস্থিতি খুব খারাপ পর্যায়ে আছে। শহরের ২৩টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ১১টিতে একিউআই ৪০০ পার করেছে। এই আবহে কোথাও কোথাও শ্বাসকষ্টের অভিযোগ উঠছে। দীপাবলির আগে থেকেই রাজধানীর দূষণের ছবিটা ভাল ছিল না। সুপ্রিম কোর্টও সেটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। দূষণের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ধোঁয়াশা। রোজ সকালে ঘন ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে রাজধানী। রবিবারও সেই ছবি ধরা পড়ল। রবিবার ৫৪টি কেন্দ্রের পরিস্থিতি ‘ভয়ানক’ হয়েছে।
এখানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পাঞ্জাবি বাগে। সেখানে একিউআই ৪৫০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরকে পুরম ৪৪৯ এবং তৃতীয় স্থানে আইআইটি দিল্লি ৪৪৬। দ্বারকায় একিউআই ৪৪৪। আনন্দ বিহারে সকাল ৬টায় দূষণ সূচক ছিল ৩২৮। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তথ্য বলছে, রবিবার দিল্লিতে বাতাসের গুণগত মানের সূচক বেশির ভাগ জায়গায় ৪০০ পার করেছে। কয়েকটি জায়গায় ৪০০-র কাছাকাছি। কোথাও আবার ৩০০ ছাড়িয়েছে। সুতরাং বেশির ভাগ জায়গায় দূষণমাত্রা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে। পঞ্জাবি বাগে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
কম বাতাসের গতি, প্রতিকূল আবহাওয়া, যানবাহনের ধোঁয়া, খড় পোড়ানো এবং দীপাবলির বাজির জেরে দূষণ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকছে বলে মনে করছেন আবহবিদরা। দিল্লির দূষণে পরিবহণ ক্ষেত্রের অবদান ২১.৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়্ন্ত্রণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, একিউআই ৪০০ পার করেছে মথুরা রোড (৪২৫), সিরিফোর্ট (৪২৩), দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা (৪২৩), চাঁদনী চক (৪১৭), পুসা (৪১৫), বুড়ারী ক্রসিং (৪১১)। আর একিউআই ভয়ঙ্কর পর্যায়ে রয়েছে নরেলা (৩৯৯), আইটিও (৩৯৬), মন্দির মার্গ (৩৯৩), উত্তম নগর (৩৭৩), তালকোটরা গার্ডেন এবং আয়ানগরে (৩৬৯)।
তাছাড়া শনিবার খড় পোড়ানোর অবদান ছিল ১.৭ শতাংশ, যা রবিবার বেড়ে ৫.৪ শতাংশ হতে পারে। এই আবহে দিল্লি-এনসিআরে ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে গ্র্যাপের তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ। বন্ধ রাখা হয়েছে ধূলোর সৃষ্টি হয় এমন নানা নির্মাণকাজ। বিএস ৩ পেট্রোল এবং বিএস ৪ ডিজেল গাড়ির চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে কয়েকটি এলাকায়। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য হাইব্রিড ক্লাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শুধু দিল্লিতে নয়, এনসিআরেও দূষণের ছবিটা খুব খারাপ। পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশেও দূষণের মাত্রা খারাপ থেকে অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।