দেশের সামরিক শক্তিকে আরও মজবুত করতে একসঙ্গে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করল কেন্দ্র। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি এবং নৌবাহিনীর নজরদারি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি।দু’টি মিলিয়ে মোট ৮৫৮ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দিল্লিতে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ৪৪৫ কোটি টাকার তুঙ্গুস্কা চুক্তি হয়। এটি রাশিয়ার জেএসসি রোসোবোরোনেক্সপোর্ট-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ৪৪৫ কোটি টাকার। এই চুক্তিতে ভারতীয় সেনার জন্য আনা হবে রাশিয়ার তৈরি তুঙ্গুস্কা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এই ব্যবস্থা মূলত নিচু দিয়ে উড়ে আসা শত্রু ড্রোন, হেলিকপ্টার বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে দ্রুত ধ্বংস করতে সক্ষম। দিন-রাত এবং সব ধরনের আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে এটি। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় স্থলবাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রে সুরক্ষা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তি হয়েছে রাশিয়ার সংস্থা জেএসসি রোসোবোরোনেক্সপোর্ট-এর সঙ্গে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে।
অন্যদিকে, ৪১৩ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে মার্কিন সংস্থা বোয়িং ইন্ডিয়া ডিফেন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর সঙ্গে। এর মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনীর বোয়িং পি-৮১ পোসাইডন নজরদারি বিমানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহোলিং অর্থাত রক্ষণাবেক্ষণ দেশের মধ্যেই করা হবে। বর্তমানে নৌবাহিনীর কাছে ১২টি পি-৮আই বিমান রয়েছে, যা সমুদ্রপথে নজরদারি এবং ডুবোজাহাজ শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই বিমানগুলি তামিলনাড়ুর আইএনএস রাজালি এবং গোয়ার আইএনএস হানসাতে মোতায়েন রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ৬টি বিমান যোগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুটি চুক্তিই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে। দেশের মাটিতেই উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ও আমেরিকার সঙ্গে একযোগে এই চুক্তি ভারতের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার নীতির প্রতিফলন। মনে করা হচ্ছে এই নীতি ভবিষ্যতে দেশের সামরিক ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।