শেষ উদ্ধার অভিযান, জব্বলপুরে ক্রুজডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর জেলার বরগি বাঁধে ক্রুজ উল্টে যাওয়ার ঘটনায় শেষ হল তল্লাশি অভিযান। প্রশাসনের তরফে রবিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তল্লাশি অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়।  এদিন সকালে নিখোঁজ থাকা আরও দুটি দেহ উদ্ধার হয়। এর ফলে এই দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৩।

বরগি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নীলেশ দোহরে জানিয়েছেনরবিবার ভোরে প্রথমে ৫ বছরের শিশু ময়ূরমের দেহ উদ্ধার হয়। এরপর উদ্ধার হয়  বছর ৫০-এর কামরাজের দেহ। তিনি খামারিয়ার অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কর্মী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছেগত তিনদিন ধরে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং আগ্রা থেকে আনা বিশেষ ডুবুরি দল-সহ মোট ২০০ জন উদ্ধারকর্মী উদ্ধারকাজ চালিয়ে এই দেহগুলি উদ্ধার করেন।

প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলে তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছেরাজ্য পর্যটন দফতরের অধিনস্ত ২০ বছরের পুরনো ও জরাজীর্ণ ওই ক্রুজটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় ওই ক্রুজে কতজন যাত্রী ছিলেন তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। সরকারি তথ্যে ৪১ জন যাত্রীর নাম থাকলেওসিসিটিভি ফুটেজে ৪৩ জনকে ক্রুজের দিকে যেতে দেখা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পরই ২৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। জরাজীর্ণ জাহাজটি কেন চালানো হচ্ছিলতা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই ওই ক্রুজের ৩ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।


অন্যদিকে, ১৩ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ক্রুজচালক মহেশ পাটেল। তিনি বলেছেন, ‘এই ঘটনায় আমার কোনও দোষ নেই। এর জন্য দায়ী প্রকৃতির রোষ। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল সব যাত্রীকে নিরাপদে পাড়ে পৌঁছে দেওয়া যায়। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য তিনি ক্রুজভ্রমণের আয়োজকদের দিকেও আঙুল তুলেছেন। অভিযোগ করেছেন যাত্রীদের সম্পর্কেও।

তাঁর দাবি, ক্রুজে জল ঢুকতে থাকার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ক্রুজভ্রমণের আয়োজকদের ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। দ্রুত উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সময় মতো উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানো হয়নি। পাশাপাশি যাত্রীদের লাইফজ্যাকেট দেওয়া হলেও তাঁরা সেগুলি গায়ে তোলেননি। তাঁরা নাচ-গান এবং আনন্দ করতে ব্যস্ত ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় নিরাপত্তায় যে বড়সড় গাফিলতি ছিলসেটা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন ক্রুজচালক মহেশ।