সম্পত্তি আর সরকারি চাকরির লোভ একজন মানুষকে কতটা নির্মম করে তুলতে পারে, তার ভয়ঙ্কর উদাহরণ হয়ে উঠল রাজস্থানের জয়পুরের ঘটনা। নিজের মাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে ২৩ বছরের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর মায়ের নামে থাকা ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি এবং বাবার সরকারি নিজের দখলে নিতে এই খুনের ছক কষে সে। অভিযুক্ত তরুণীর নাম আয়ুষী শর্মা। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তরুণী-সহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে ওই পরিবারের কর্তার মৃত্যু হয়। এরপর নিয়মমাফিক তাঁর স্ত্রী নীরজ শর্মা সরকারি চাকরিটি পান। পাশাপাশি পরিবারের বিপুল সম্পত্তিরও বড় অংশ ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে। পুলিশের দাবি, মেয়ে বুঝতে পারে, মা বেঁচে থাকতে সেই সম্পত্তি বা চাকরির কোনওটিই তার হাতে সহজে আসবে না। এরপরই মাকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষতে থাকে ওই তরুণী। আয়ুষীর বিশেষভাবে সক্ষম এক ভাইও রয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, সুপারি কিলারের সাহায্যে পরিকল্পনামাফিক হত্যা করা হয় নীরজ শর্মাকে। এই কাজে আয়ুষী তার কাকা মোহন স্বরূপ এবং কাকার ছেলে বলরাম ওরফে রবিকেও যুক্ত করেন। তাঁদেরও ১০ কোটির লোভ দেখান। কথা হয়, মাকে সরিয়ে দিতে পারলে সম্পত্তির অর্ধেক ভাগ পাবেন কাকার ছেলে বলরাম। অভিযোগ, এক ভাড়াটে খুনিকে ৭ লক্ষ টাকা সুপারি দেয় আয়ুষী। গাড়ি চাপা দিয়ে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। সেই মতো হরিয়ানা থেকে খুনি ভাড়া করে আনা হয়। ৪ জুলাই কাজ থেকে ফেরার সময় নীরজকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে গাড়ি। তিনি ১০০ ফুট দূরে গিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু বলে প্রথমে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তদন্তকারীদের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ,সিসিটিভির সাহায্যে তদন্তে ধীরে ধীরে ধরা পড়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরে জেরার মুখে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে অভিযুক্ত তরুণীর বক্তব্যে। সবদিক খতিয়ে দেখার পর ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার তদন্ত চলছে। অন্য কেউ এর সঙ্গে যুক্ত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির নথি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ঘটনার আগে-পরে অভিযুক্তের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।