মহরমের মিছিল ঠেকাতে কাশ্মীরে ফের কার্ফু জারি

নিরাপত্তায় মোড়া জম্মু ও কাশ্মীর। (Photo: IANS)

কাশ্মীর উপত্যকায় মহরমের মিছিল বার করার পরিকল্পনা ব্যর্থ করার জন্য শ্রীনগর সহ কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার পুনরায় কার্ফুর মতাে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মহরমের মিছিল থেকে হিংসার সূচনা হতে পারে এই আশঙ্কাতেই কর্তৃপক্ষ এই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সংবাদসংস্থার খবরে প্রকাশ।

বাণিজ্যিক কেন্দ্র লালচক ও লাগােয়া অঞ্চলের প্রবেশপথে কাঁটাতার লাগিয়ে পুরােপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। মােতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী। উপত্যকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সরকারি অফিসাররা নিষেধাজ্ঞা আরােপের কারণ সম্পর্কে অবশ্য কিছু জানাননি। মনে করা হচ্ছে শ্রীনগর ও উপত্যকার অন্যত্র মহরমের মিছিলকে বাধা দিতেই এই পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, সশস্ত্র জঙ্গি কার্যকলাপের পর ১৯৯০ থেকেই কাশ্মীরে মহরমের মিছিল নিষিদ্ধ রয়েছে। গত ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭০ ধারা রদ করে রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেদিনই সমগ্র কাশ্মীরে প্রথম নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।


তারপরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় উপত্যকার বিভিন্ন অংশে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। তবু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে প্রতি শুক্রবার উপত্যকার সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা জারি করছিল। বড় বড় মসজিদগুলির বিরাট সমাবেশকে কায়েমি স্বার্থবাদীরা প্রতিবাদে উস্কানি দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল।

এদিকে কাশ্মীরে বাজার, দোকানপাট বন্ধ থাকার ব্যাপারটা মঙ্গলবার ৩৭ দিনে পড়ল, বন্ধ রয়েছে গণ পরিবহণও। ফলে কাশ্মীরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে রয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ও দ্বিতীয় সারির বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিকদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে হেফাজতে রাখা হয়েছে, তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতি সহ মূল স্রোতের নেতাদের হয় আটক বা গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।