জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। বুধবার বুদগাম জেলা পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-হুরিয়তের (তেহ) কেন্দ্রীয় দপ্তর বাজেয়াপ্ত করল। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বহু আগেই সংগঠনটিকে অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, ১৯৬৭-র আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার সেই সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ই বাজেয়াপ্ত করা হল।
পুলিশ সূত্রে খবর, শ্রীনগরের উপকণ্ঠ হায়দরপুরায় অবস্থিত ওই তিনতলা দালান দীর্ঘদিন ধরে তেহরিক-ই-হুরিয়তের কেন্দ্রীয় দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এই বাড়িটি কার্যত বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হয়ে উঠেছিল। বুধবার আইন অনুযায়ী ভবনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
২০০৪ সালে প্রয়াত পাকিস্তানপন্থী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি এই সংগঠনটি গড়ে তোলেন। শুরু থেকেই কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করার প্রচার ও জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে সংগঠনটি নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে আসে।
ভারত সরকার ইতিমধ্যেই জামাত-ই-ইসলামি-সহ একাধিক সংগঠনের সঙ্গে তেহরিক-ই-হুরিয়তকেও নিষিদ্ধ করেছে। অভিযোগ, এই সংগঠনগুলি সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়েছে এবং উপত্যকায় বিভাজনমূলক কার্যকলাপ চালিয়েছে।
গত কয়েক বছরে সংগঠনের বহু নেতা ও সদস্যকে অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাদের একাধিক সম্পত্তি। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাবে।
এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি নেওয়া হয়েছে। সেই নীতি অনুসারে কোনোপ্রকার রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে ব্যবহৃত যে কোনও দপ্তর বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।’