করােনাভাইরাসের সংক্রমণ বিহার, রাজস্থানে, পর্যবেক্ষণে ১০০

করােনাভাইরাসে আক্রান্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। (Photo by STR / AFP) / China OUT

দেশেও কি তবে ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী নােভেল করােনাভাইরাসের সংক্রমণে। মুম্বইয়ের চিন-ফেরত দুই যাত্রীর পরে এবার বিহারের ছাপড়া ও রাজস্থানের জয়পুরে দু’জন আক্রান্ত হলেন ভাইরাসের সংক্রমণে। সুত্রের খবর, যে দু’জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তার দু’জনেই চিন-ফেরত।

পড়ার বাসিন্দা এক তরুণী চিন থেকে ফেরার পরেই সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হন। পাটনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। হাসপাতাল সুপার জানিয়েছেন, টেস্টের পরে করােনাভাইরাস সংক্রমণের সব উপসর্গই দেখা গেছে মেয়েটির মধ্যেই। হাসপাতালের আইসােলেশন ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজস্থানের জয়পুরেও এক ব্যক্তির মধ্যে দেখা গেছে ভাইরাসের সংক্রমণ। তিনিও দিন দুয়েক আগে চিন থেকে ফিরছেন। সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিনড্রোম দেখা গেছে তার মধ্যেও। ওই ব্যক্তির রক্তের নমুনা পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরােলজিতে পাঠানাে হয়েছে।


ভাইরাসের আতঙ্কে দেশের সাতটি বড় বিমানবন্দরে চলছে থার্মাল-স্ক্রিনিং। চিন থেকে আসা ১৩৭টি বিমানের ২৯ হাজারেরও বেশি যাত্রীর স্ক্রিনিং হয়েছে বলে খবর। সামান্য সন্দেহ হলেই তাদের আলাদা করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেরল, মহারাষ্ট্রে অন্তত ১০০ জনকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

করানােভাইরাসের হানায় চিনেও মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সে দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য হিসেব বলছে, সােমবার অবধি মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮০। তাদের মধ্যে ১৩ জনই হবেই প্রদেশের। এখনও পর্যন্ত হবেই প্রদেশেই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। আক্রান্ত প্রায় দু ‘ হাজার।

চিন-ফেরত দুই যাত্রীর থেকে করােনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়ানাের পরে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দফতর। চিনে বহুদিন বসবাস করার পরে দেশে ফিরেছেন এমন মানুষজন যাঁরা নিউমােনিয়ায় আক্রান্ত বা সর্দি-জ্বর-কাশি রয়েছে, তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই জন্য কয়েকটি হাসপাতালে তৈরি হয়েছে বিশেষ ওয়ার্ড, প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিমকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করেছিল ২০১৯-এনকভ নামে। গবেষকরা এখন এই ভাইরাসকে ডাকছে ইউহান করােনাভাইরাস নামে।