ইথানলের চাহিদায় ভুট্টার দাম ঊর্ধ্বমুখী, চড়ছে মুরগি-ডিমের বাজার

গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়েছে পশুখাদ্যের দাম। সয়াবিন মিলের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পেট্রলে ইথানল মেশানোর কর্মকাণ্ডের জেরে ইথানল উৎপাদনে ভুট্টার ব্যবহার বেড়েছে। ফলে শস্যটির দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়েছে। এর জেরে বৃদ্ধি পেয়েছে পশুখাদ্য উৎপাদনের খরচও। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মুরগির মাংস ও ডিমের বাজারে।

সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা বা সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ে পশুখাদ্যের দাম ছিল প্রতি কুইন্টাল ৩ হাজার ৬০০ টাকা। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রয়লার মুরগি পালনের মোট খরচের প্রায় ৬৫ শতাংশই পশুখাদ্যের পিছনে ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যের দাম বাড়তেই উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরো বাজারেও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং বাতাসে দূষণকারী গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যেই কেন্দ্র সরকার পেট্রলে ইথানলের মিশ্রণ বাড়ানোর কর্মসূচি নিয়েছে। আখের পাশাপাশি বর্তমানে ভুট্টাও ইথানল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ইথানল কারখানাগুলিতে ভুট্টার চাহিদা বাড়ায় খোলা বাজারে শস্যটির দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পশুখাদ্য শিল্পেও পড়েছে।


পোল্ট্রি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার জয়েন্ট সেক্রেটারি রিকি থাপারের দাবি, গত বছরের জুলাইয়ে দিল্লিতে গোটা মুরগির দাম ছিল প্রতি কিলোগ্রাম ৯০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। একইভাবে খুচরো বাজারে মুরগির মাংসের দাম গত বছরের তুলনায় প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ৬০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকায় পৌঁছেছে। পশ্চিমবঙ্গে চলতি জুলাইয়ে মুরগির মাংসের খুচরো দাম ২৪০ থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

শুধু মুরগির মাংসই নয়, ডিমের বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশজুড়ে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিকেই এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুই খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের সংসারের খরচ আরও বেড়েছে।