বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করছেন একাধিক নেতা। অনেকেই মনে করছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী লড়াই চালাতে হলে নেতৃত্ব পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। তামিলনাড়ুর উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনের নেতৃত্বকে জোটের জন্য উপযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, অন্য রাজ্যের নেতারাও এমকে স্ট্যালিনকে এই দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করছেন।
পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উদয়নিধির মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। জোটের দুই বড় শরিক—ডিএমকে ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অনেকের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে একদিকে কংগ্রেসকে চাপে রাখা এবং অন্যদিকে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শিবসেনা (উদ্ধব)-এর পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোটের মুখ হিসেবে দেখতে চান। তিনি স্ট্যালিন ছাড়াও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের নামও নেতৃত্বের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন। তবে নেতাদের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত।
সম্প্রতি স্ট্যালিন ও কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপালের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে মূলত আসন সমঝোতা ও রাজ্য নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতের নির্বাচনী কৌশল ও জোটের অভিন্ন নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র ব্যাটন কার হাতে থাকবে তা নিয়েও গত কয়েক দিন ধরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে সেখানে প্রধানত দুটি নাম উঠে এসেছে—তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। কারণ এঁদের যে ভাবমূর্তি রাজীত রাজনীতিতে রয়েছে, তাতে মনে করা হচ্ছে তাঁরা জাতীয় সঙ্কট মোকাবিলায় সক্ষম।