উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভার পর রামলীলা ময়দানে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান ঘিরে যে রাজনৈতিক আগুন জ্বলছিল, তার আঁচ পৌঁছল সংসদেও। বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে এই ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্যসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অস্পৃশ্যতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলেন খাড়্গে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে কংগ্রেস সাংসদরা সরব হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উচ্চকক্ষ। পাল্টা বিজেপিও অভিযোগের জবাব দিতে নামে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। ঘটনার তদন্তের আশ্বাসও দেন তিনি।
বিতর্কের সূত্রপাত গত ৮ আগস্ট। হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের জনসভায় বক্তৃতা করেছিলেন খাড়্গে। অভিযোগ, তাঁর সভা শেষ হওয়ার দু’দিন পর ‘শ্রী রাম সেনা’ নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সেখানে পুরোহিত ডেকে যজ্ঞ ও পুজোর মাধ্যমে ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। কংগ্রেসের দাবি, খাড়্গে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই এই কাজ করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ড কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়ালের অভিযোগ, এর মাধ্যমে শুধু খাড়্গে নন, গোটা দলিত সমাজকেই অপমান করা হয়েছে। সংগঠনটির সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তুলেছে কংগ্রেস। যদিও সেই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বিজেপি।
বৃহস্পতিবার সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ দিন রাজ্যসভায় শুদ্ধিকরণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে খাড়্গে বলেন, তিনি সভায় কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নাম না নিয়ে মানুষের সমস্যার কথা বলেছিলেন। তার পরেও তাঁর সভাস্থল ‘শুদ্ধ’ করার প্রয়োজন কেন হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘ সেখানে সেই সময় প্রচুর মানুষ ছিলেন। আমি কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নাম পর্যন্ত মুখে আনিনি। কিন্তু আমার বক্তৃতার পর বিজেপি কর্মীরা শুদ্ধিকরণ করেন।’ তার পরেই বিজেপিকে নিশানা করে খাড়্গে বলেন, ‘এটাই কি গণতন্ত্র ? আপনারা কীভাবে সংবিধানকে রক্ষা করবেন ? আমি (রাজ্যসভার) বিরোধী দলনেতা। আমি বিষয়টা নিয়ে রাজনীতি চাই না।’ খাড়্গে বক্তব্য শুরু করতেই বিজেপির জবাব চেয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদরা। পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন। তিনি বলেন, ‘অস্পৃশ্যতার চেয়ে বড় পাপ আর কিছু নেই।’ ঘটনার নিন্দা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। উত্তেজিত খাড়্গেকে শান্ত করার চেষ্টা করেন উপরাষ্ট্রপতি।
জবাবি বক্তৃতা দিতে গিয়ে নাড্ডা বলেন, বারবার বিজেপিকে দায়ী করা ঠিক নয়। দলের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘যা হয়েছে, তার তদন্ত হবে। আমি এই আশ্বাস দিচ্ছি। আপনার ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে, এটা আমাদের কাছে খুবই দুঃখজনক।’ খাড়্গে পাল্টা জানান, তিনি কাউকে সরাসরি দায়ী করছেন না। তাঁর দাবি একটাই—অভিযোগ দায়ের করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা।
এদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, খাড়্গের সভা থেকে এমন কিছু স্লোগান উঠেছিল যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত লাগে। সেই কারণেই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ফলে ভোটমুখী উত্তরাখণ্ডের ময়দান পেরিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক এখন কংগ্রেস-বিজেপির তুমুল রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন মঞ্চ হয়ে উঠেছে।