মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

‘সারে হরিয়ানা মে মেরা অর্ডারই চলতা হ্যায়। আপ কিঁউ নেহি মানোগি মেরা অর্ডার।’ এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টরকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ না মানায় মহিলা আইপিএস অফিসারকে এমনই বলেলেন হরিয়ানার শক্তি, শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী তথা শীর্ষ বিজেপি নেতা অনিল ভিজ। কয়েকদিন আগে কৈথালের ডিএসপি উপাসনার সঙ্গে মন্ত্রী ভিজের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে মন্ত্রীকে ডিএসপি উপাসনার সামনে নিজের ক্ষমতার আস্ফালন করতে দেখা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই  ওই ভিডিও নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রীর শালীনতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তবে বিষয়টি নিয়ে নীরব পদ্ম শিবির।

জানা গিয়েছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের মামলায় এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকেছিলেন কৈথালের জনৈক ব্যক্তি। বিষয়টি নিয়ে ভিজের পৌরোহিত্যে গ্রিভান্স রিড্রেসাল কমিটির বৈঠক বসেছিল। ওই বৈঠকে সকলের সামনেই মন্ত্রী ডিএসপিকে অর্ডার দেন, অভিযুক্ত জুনিয়র পুলিশকর্মীকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করুন। কিন্তু ডিএসপি নিজের আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে এনে জানান, ওই এএসআইকে সাসপেন্ড করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ ওই এএসআই পাশের জেলার। তাই তাঁকে সাসপেন্ড করার আইনি ক্ষমতা তাঁর নেই।

ওই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে কোনও রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন কুরুক্ষেত্রের এসপি। ডিএসপির ওই মন্তব্যে উত্তেজিত হয়ে পড়েন ভিজ। সকলের সামনেই মহিলা ডিএসপিকে রীতিমতো ধমক দেন মন্ত্রী। এরপরই  হরিয়ানার শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী তাঁকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। উত্তেজিত মন্ত্রী ডিএসপিকে বলেন, ‘প্রতিটা ক্ষেত্রেই আপনি এরকম বিরুদ্ধাচরণ করেন। আমার আদেশ, ওই এএসআইকে সাসপেন্ড করতে হবে। দরকারে ডিজিপিকে চিঠি লিখুন। আমি যখন বলছি, তখন আমার আদেশ আপনাকে পালন করতেই হবে।’


শেষ পর্যন্ত ভিজ মহিলা অফিসারকে সাসপেনশনের আদেশের কথা লিখিতভাবে ডিজিপিকে জানাতে বললে তিনি রাজি হন। ঘটনার জেরে বৈঠকের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন কৈথালের ডেপুটি কমিশনার অপরাজিতা। শেষ পর্যন্ত তাঁর হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ওই ভিডিও ভাইরাল হতেই আসরে নামে কংগ্রেস। তাদের কটাক্ষ, এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। একজন মহিলা পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করতে হয় সেটা মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতারা জানেন না। মন্ত্রীর উচিত, ডিএসপির কাছে ক্ষমা চাওয়া। এই ঘটনাতেই স্পষ্ট, বিজেপি আইন-কানুনের ধার ধারে না। বিজেপি নেতারা নিজেদের মর্জি মতোই রাজ্য তথা দেশ চালাতে চায়।