ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মোদী সরকারের অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ভারতের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে।
সোমবার এক সাক্ষাৎকারে পৃথ্বীরাজ চৌহান বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আজ ভেনেজুয়েলা, কাল অন্য কোনও দেশ— এমনকি ভারতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।’ তাঁর অভিযোগ, এত গুরুতর আন্তর্জাতিক ঘটনার পরেও ভারত সরকার কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। বরাবরের মতোই মোদী সরকার এই ইস্যুতে ‘নীরব’ থেকেছে বলে দাবি করেন তিনি।
চৌহান আরও বলেন, ‘রাশিয়া ও চিনের মতো দেশ ভেনেজুয়েলার ঘটনায় প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে এবং আমেরিকার কড়া সমালোচনা করেছে। কিন্তু ভারত আমেরিকার ভয়ে এতটাই ভীত যে সমালোচনা করার সাহসও পাচ্ছে না।’ ইজরায়েল-হামাস সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানেও ভারত কোনও দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। কংগ্রেস নেতার দাবি, ভারতের মতো একটি বড় ও সার্বভৌম দেশের উচিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বাধীন ও সাহসী অবস্থান নেওয়া। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া চেয়েছেন চৌহান। তাঁর বক্তব্য, ভেনেজুয়েলার মতো ঘটনার ক্ষেত্রে ভারতের উচিত কড়া ভাষায় নিন্দা জানানো এবং গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানো।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরোর গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারত সরকার সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি। তবে রবিবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে এবং সকল পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানাচ্ছে। এছাড়াও বিদেশমন্ত্রক জানায়, কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সেখানকার ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাঁদের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।