নতুন বছরের শুরুতেই সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি খরচের খবর এল। ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ১১১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বছরে প্রথম দিনে এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, ধাবা ও খাবার সরবরাহকারী সংস্থাগুলির খরচ বেড়ে গেল। তার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের উপরও। কারণ বাইরে খাওয়া বা অনলাইনে খাবার অর্ডার করলে বেশি দাম পড়তে পারে।
এর আগে ১ ডিসেম্বর, বিহার বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১০ থেকে ১১ টাকা কমানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই সেই স্বস্তি উধাও। শুধু বড় সিলিন্ডারই নয়, ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি (এফটিএল) সিলিন্ডারের দামও ২৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে গৃহস্থের রান্নাঘরে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির ঘরোয়া রান্নার খরচ আপাতত বাড়ছে না।
নতুন দামের পরে দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ টাকা ৫০ পয়সা। কলকাতায় এই দাম বেড়ে হয়েছে ১,৭৯৫ টাকা। মুম্বইয়ে দাম ১,৫৩১ টাকা ৫০ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ১,৭৩৯ টাকা ৫০ পয়সা। তৈল বিপণনকারী সংস্থাগুলি প্রতি মাসের প্রথম দিনে এলপিজি ও বিমান জ্বালানির দাম পর্যালোচনা করে। সেই নিয়ম মেনেই এবার দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে ছোট হোটেল, খাবারের দোকান ও ক্যাটারিং ব্যবসার উপর। বড় হোটেল কিছুটা সামাল দিতে পারলেও ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে তা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই অনেক ক্ষেত্রেই খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানোর ঘোষণা করেছিলেন। এরপর মাত্র একবারই সেই দামে বৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি, গত ৮ আগস্ট কেন্দ্র সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তার প্রভাব কম রাখতে তৈল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে মোট ৩০ হাজার কোটি টাকা ভরতুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবুও বছরের শুরুতেই বাণিজ্যিক গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি জনসাধারণের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।