দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায় ফের চর্চায় ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)। বুধবার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে (Abhijeet Dipke) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রতিবাদের দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ যন্তর মন্তর সিজন টু (Jantar Mantar Season 2) শুরু হতে চলেছে খুব শীঘ্রই।
দীপকের অভিযোগ, দিল্লিতে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের একটি সভার জন্য হল ভাড়া নিতে গিয়ে একের পর এক জায়গা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। প্রত্যেকেই নাকি বলেছেন, ওপর মহল থেকে চাপ আছে। শেষমেশ একটি হল জোগাড় করা গেলেও বুধবার সকালে সেই হলের মালিকপক্ষকে হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
আন্দোলনের ইতিকথা
উল্লেখ্য, এই সংগঠনের জন্মের নেপথ্যকথাও বেশ চমকপ্রদ। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Surya Kant) একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একটি মামলা প্রসঙ্গে দেশের বিপুল বেকার যুবসমাজকে তিনি আক্ষরিক অর্থেই তুলনা করেছিলেন আরশোলা এবং সমাজের পরজীবীদের সঙ্গে। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদেই ১৬ মে জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি।আম আদমি পার্টির (Aam Aadmi Party) প্রাক্তন রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিত দীপকে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।
জুলাই মাসের ২০ তারিখে সংসদ অভিযানের (March to Parliament) সময় পুলিশি লাঠিচার্জে বহু আন্দোলনকারী আহত হন। পরে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। তারপর থেকেই যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) কড়া নিরাপত্তা বলয় বসিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশ। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা।
এখন কী পরিকল্পনা
সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, বর্তমানে যে আন্দোলন চলছে, সেটিকেই তাঁরা সিজন টু বলে গণ্য করছেন। স্বাধীনতা দিবস থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে একটি লিসনিং ট্যুর (Listening Tour) বা শোনার সফর শুরু হবে বলে জানান তিনি। সাধারণ মানুষকে সরকারি স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার এবং সামাজিক নিরীক্ষা বা সোশ্যাল অডিটের (Social Audit) মাধ্যমে তথ্য নথিভুক্ত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। সংগঠনের আরেক সদস্য আশুতোষ রাঙ্কার মন্তব্য, স্বাধীনতার পর থেকেই সরকারি স্কুলগুলি চূড়ান্ত অবহেলার শিকার।
এদিকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতেও ছাত্র আন্দোলন চলছে। দেবেন্দ্র মাহাতোর নেতৃত্বে সেই কর্মসূচিতেও পাশে থাকছেন সিজেপি স্বেচ্ছাসেবকরা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
শীর্ষ আদালতের এক মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে চেহারা নিয়েছে বেকারত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যুবসমাজের ক্ষোভের প্রতীকী মঞ্চের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক অথচ ধারালো আন্দোলন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, ঠিক যেভাবে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যেকোনও ভাইরাল প্রতিবাদ। এখন দেখার, প্রতিশ্রুতি মতো সত্যিই যন্তর মন্তরে দ্বিতীয় দফার আন্দোলন কতটা জোরালো রূপ নেয়।