‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হচ্ছে’, বাংলা-আসাম-বিহারে ধরপাকড় নিয়ে কেন্দ্রকে চরমবার্তা ককরোচদের

কলকাতায় NEET বিক্ষোভ (SNS)

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা আদায়ের পরে গত শনিবারই যন্তরমন্তরের (Jantar Mantar) আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)। কিন্তু মাত্র দু’দিনের মাথায় ফের চাপানউতোর শুরু হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকার ও এই যুব সংগঠনের মধ্যে। সোমবার সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্স-এ (X) দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ করেন, অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে রাজ্য প্রশাসনের হাতে পড়ুয়া ও আন্দোলনকারীদের নিশানা করা, আটক করা এমনকি গ্রেফতার করার একাধিক অভিযোগ তাঁদের কাছে পৌঁছেছে।

আন্দোলনের শর্ত

বিবৃতিতে সৌরভ স্পষ্ট করে দেন, কেন্দ্রীয় সরকার লিখিত আশ্বাস দিয়েছিল যে বিজেপি বা এনডিএ (NDA) শাসিত কোনও রাজ্যে কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এখন বা ভবিষ্যতে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই সংগঠন সরল বিশ্বাসে দেশজোড়া আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে জানান তিনি। অথচ তার পরেও একাধিক রাজ্য থেকে ধরপাকড়ের খবর আসায় গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছে সংগঠন।


বাংলায় ঠিক কী ঘটেছে

রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১০ জনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সাতটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামেও যন্তরমন্তরের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ, যাঁদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। এই ধরপাকড়ের ধরন নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছে ককরোচ পার্টি ও পড়ুয়া-সহ আন্দোলনের সমর্থকরা। কারণ নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের উপরেই বেছে বেছে আক্রমণের অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>🚨STATEMENT<br><br>We are deeply concerned by multiple reports reaching us of students and other protestors being targeted, detained, or arrested by various state agencies, particularly in Assam, West Bengal, and Bihar.<br><br>The Cockroach Janta Party had called off its nationwide protest…</p>&mdash; Saurav Das (@SauravDassss) <a href=”https://x.com/SauravDassss/status/2081626434267656550?ref_src=twsrc%5Etfw”>July 27, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

কেন্দ্রকে সরাসরি বার্তা

সৌরভ জানিয়েছেন, প্রথম দিন থেকেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির দক্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করছে তাঁদের আইনি দল। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা (JP Nadda) ও জিতেন্দ্র সিংহের (Jitendra Singh) উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে আটকদের মুক্তি, বলপ্রয়োগ ও ফৌজদারি পদক্ষেপ বন্ধ এবং দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) প্রত্যাহার। মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে এই মর্মে লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও কেন্দ্র দিয়েছিল বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন সংগঠনের মুখপাত্র।

চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এলে তা শুধু ককরোচ পার্টির সঙ্গেই নয়, সংলাপের পথ বেছে নেওয়া লক্ষ লক্ষ তরুণ ভারতীয়ের সঙ্গেও বিশ্বাসভঙ্গ হবে। সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা যে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় নয়, তা পদে পদে পালন করা, সে কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে। মঙ্গলবারের মধ্যে সব আটক ও গ্রেপ্তার ব্যক্তির মুক্তি এবং এফআইআর প্রত্যাহার না করা হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠন।