দিল্লির পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ ঘিরে এবার বড় পদক্ষেপের পথে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party, CJP)। সংসদ চলো (Sansad Chalo) কর্মসূচিতে গত ২০ জুলাই ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণ করতে এ বার একটি ওয়েবসাইট চালু করতে চলেছে দলটি, যেখানে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের চিহ্নিত করে এফআইআর (FIR) দায়েরের চেষ্টা হবে।
কী বলছেন ককরোচরা
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, সংসদ চলো অভিযানের দিন বহু পড়ুয়াকে মারধর করা হয়েছে এবং মহিলা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর কথায়, যে সমস্ত পুলিশকর্মী পড়ুয়াদের উপর আক্রমণ চালিয়েছেন, আহত করেছেন কিংবা তরুণীদের হেনস্থা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ঘটনা তাঁরা ভুলবেন না এবং চুপ করে বসেও থাকবেন না।
দলের তরফে বিক্ষোভকারীদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, পুলিশি অত্যাচারের যাবতীয় ছবি ও ভিডিয়ো যেন তাঁরা এই আসন্ন ওয়েবসাইটে আপলোড করেন। সৌরভ দাসের দাবি, জমা পড়া প্রতিটি প্রমাণ খতিয়ে দেখে প্রত্যেক অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে চিহ্নিত করবে সিজেপির দল, এবং তার ভিত্তিতেই এফআইআর দায়েরের দাবি জানানো হবে।
আইনি লড়াই
শুধু অভিযোগ তোলাই নয়, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সিজেপি। সৌরভ দাসের বক্তব্য, দেশজুড়ে বহু আইনজীবী তাঁদের এই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছেন। দিল্লি পুলিশ যদি চিহ্নিত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না করে, তা হলে আদালতের নির্দেশ নিয়েই তাঁরা এগোবেন। তাঁর কথায়, সময় এলে অভিযুক্ত প্রত্যেকেই জেলের ঘানি টানবেন, এটাই তাঁদের প্রতিশ্রুতি।
কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক
শুক্রবারই দিল্লির বিঠলভাই পটেল হাউসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠক করেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে দল, জানিয়ে দেওয়া হয় এই দাবিতে কোনও রকম আপস সম্ভব নয়। পাশাপাশি, ২০ জুলাই বিক্ষোভে যে পড়ুয়াদের নিদারুণ ভাবে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানানো হয়। নিট (NEET) পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলে সিজেপি। শনিবার ফের বৈঠকে বসার কথা দুই পক্ষের।তার আগেই অবশ্য শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
দিল্লি পুলিশের পাল্টা বক্তব্য
পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে সিজেপি আয়োজিত সংসদ চলো মিছিল কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে আটকে দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। মিছিলে পেলেট গান (pellet gun) ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। যদিও দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করার পরেই বল প্রয়োগ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচটি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ, যার মধ্যে রয়েছে কনট প্লেস ও পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার মামলাও। পুলিশের দাবি, ওই বিক্ষোভে অন্তত ১১৮ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের (WhatsApp group) হদিশও, যেগুলি বিক্ষোভ পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের।