আন্দোলনে ইতি টানল আরশোলারা

Photo: Representational Image

দীর্ঘ ৪৭ দিনের লড়াই শেষ। আন্দোলনে জয় পেয়েছে আরশোলারা। পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। বাকি দুই প্রস্তাব নিয়েও আলোচনার রাস্তায় রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।  এরই মাঝে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করে সেখানে সমবেত সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার সন্ধ্যায় সরকার ও সিজেপির যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করা হয়। সরকারের সঙ্গে তাদের তিনটি প্রধান দাবির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছনোর পর দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এই ঘোষণা করেন। দলটি জানিয়েছে, সরকার তাদের দ্বিতীয় দাবিটিও মেনে নিয়েছে। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমাদের তিন দফা আলোচনা হয়েছে। যন্তর মন্তরে আমাদের যে প্রতিবাদ কর্মসূচি বেশ কয়েক দিন ধরে চলছিল, তার তিনটি প্রধান দাবি ছিল— ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত আইনি মামলা ও এফআইআর প্রত্যাহার করা। আমাদের তৃতীয় দাবিটি ছিল, নিটের প্রশ্ন ফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারগুলিকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। কিছুক্ষণ আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। অর্থাৎ, আমাদের প্রথম দাবিটি মেনে নেওয়া হয়েছে।’

দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা সকল আন্দোলনকারীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে।’ আশুতোষ রাঙ্কা আরও বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের স্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’


সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস আরও বলেন, যারা সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে, তারা সিজেপি-র সমর্থক নয়, বরং সমাজবিরোধী। বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসার নিন্দা করে তিনি বলেন, এ ধরনের লোকজন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করার এবং অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

সিজেপি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, ‘শিক্ষা সংস্কারের জন্য আপনারা যে দাবিপত্র জমা দিয়েছেন, আমরা তা পর্যালোচনা করব এবং আপনাদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও আলোচনা করব।’

আজ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসার পর দিল্লির যন্তর মন্তরে পৌঁছে গিয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলেছিলেন, এই সরকারে নাকি পদত্যাগ হয় না। ওরা নিজেদের বাদশা ভেবে ফেলেছিল। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।’ কটাক্ষ করে দীপকে আরও বলেন, ‘মাথায় রাখবেন, ককরোচ একবার ঢুকলে আর বেরোয় না।’ ভিড় তখন হাততালিতে ফেটে পড়েছে। কেউ চিৎকার করছে, কেউ উল্লাস করছে। তার মাঝেই আঙুল তুলে তিনি বলেন, ‘ঝুকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুকানেওলা চাহিয়ে।’

অন্যদিকে, পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন অত্যন্ত ব্যথিত। এটি আমার ব্যক্তিগত  বিষয় নয়। ভারতমাতার যুবশক্তিই এই দেশের আসল শক্তি। যন্তর মন্তরে এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যেন কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন অটুট থাকে এবং আমাদের সন্তানরা যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দিকে মন দিতে পারে— এই সব দিক বিবেচনা করেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’