আসামের গুয়াহাটিতে আটক করা হল ককরোচ জনতা পার্টির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কাকে। এমনকী তাঁর দলের সদস্যদের তুলে নিয়ে গেল পুলিশ বলে অভিযোগ। রবিবার গুয়াহাটিতে তাঁদের আঞ্চলিক স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রথম বৈঠক ছিল। ওই বৈঠক আসামের সচিবালয়ের সামনে ছিল। তার আগে এমন ঘটনা ঘটায় উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দাবি, এই বৈঠক ভেস্তে দিতেই দলের নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে। গোটা ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে তীব্র প্রতিবাদ করেছে দল।
এদিকে এই ঘটনার কথা জানতে পেরে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আটক করা হয়েছে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক তথা জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা-সহ সদস্যদের। তাঁদের অজ্ঞাত এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার ভয় পেয়েছে। তাদের শিক্ষাক্ষেত্রের দুরবস্থা, দুর্নীতি প্রকাশ পাবে। তাই এসব করেছে। আর আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘হিমন্ত বিশ্বশর্মা ভয় পেয়েছেন।’ আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার কথা ককরোচ জনতা পার্টির। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে ভোট চুরি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
Himanta is scared.
People of Assam are waking up. pic.twitter.com/bp455d19HR
— Ashutosh Ranka (@AshutoshRanka) September 27, 2026
অন্যদিকে এই ভোট চুরির বিরুদ্ধেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই আটক হয়ে গেলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা থেকে শুরু করে সদস্যরা। অথচ এদিন সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল সিজেপির। সেখানে গুয়াহাটিতে প্রথম বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য শনিবারই পৌঁছে যান আশুতোষ রাঙ্কা। রবিবার বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে রাঙ্কা জানিয়েছিলেন, আসামের নানা স্কুলে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে সেইসব পরিবারের সঙ্গেও কথা বলবেন।
তাছাড়া এমন ঘটনা যে ঘটবে তা তাঁরা আশা করেননি। রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সিজেপির সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে হিমন্তের সরকার। আটক হয়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকেই একটি ভিডিও প্রকাশ করে আশুতোষ বলেন, ‘আসামের অবস্থা আমরা তুলে ধরতে চাই বলে হিমন্ত বিশ্বশর্মা ভয় পাচ্ছেন। আসামের স্কুল, কাজিরাঙার বাস্তব পরিস্থিতি, রাজ্যের ম্যানমেড বন্যার বাস্তব ছবি প্রকাশ করতে চাই। তাই আমাদের আটক করেছে। আমাদের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে। তবে এখানের মানুষদের ভয় দেখানো সহজ নয়।’ ককরোচদের অভিযোগ, বৈঠকের জায়গার কাছে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।