নিট (NEET) আন্দোলন থামেনি। শুধু রূপ বদলেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরেও থামছে না ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party বা CJP)। এবার তারা হাত মিলিয়েছে কৃষক নেতাদের সঙ্গে। লক্ষ্য একটাই। সব দিক থেকে সরকারকে ঘিরে ফেলা।
কী ঘটছে দিল্লিতে
মঙ্গলবার দিল্লিতে ছিল এক কৃষক সম্মেলন। সেখানে হাজির ছিলেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত (Rakesh Tikait)। মঞ্চে ছিলেন সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, কৃষক-ছাত্র আর যুবসমাজ একসঙ্গে আসুক। সবাই মিলে সরকারকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরুক। তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। জল্পনা উসকে ওঠে, তা হলে কি আন্দোলন এবার নতুন খাতে বইবে।
নতুন মোড়
মনে রাখা দরকার, ২৫ জুলাই যন্তরমন্তরের (Jantar Mantar) আন্দোলন আপাতত স্থগিত হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন। কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাতেও আইনি সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। সিজেপির মূল দাবি তখন পূরণ হয়ে গিয়েছিল বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু মাত্র চার দিনের মাথায় সুর বদলে গেল। এবার আর শুধু পরীক্ষা সংস্কারের কথা নয়। এবার কথা হচ্ছে বৃহত্তর জোটের।
কেন এই কৌশল
সিজেপির জন্ম হয়েছিল নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে ক্ষোভ থেকে। তাদের শক্তির মূল উৎস ছিলেন পরীক্ষার্থী আর তরুণ পড়ুয়ারা। কিন্তু কৃষক আন্দোলনের নিজস্ব পুরনো শক্তি আছে। দীর্ঘ পথ চলার অভিজ্ঞতা আছে। রাস্তায় টানা আন্দোলন চালানোর কৌশল আছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এখন কাজে লাগাতে চাইছে সিজেপি। এক মন্ত্রীর গদি টলিয়ে দেওয়ার পরে তাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে অনেকটা। তাই আন্দোলন থামিয়ে না রেখে, আরও বড় চাপ তৈরির পথে হাঁটতে চাইছে আরোশোলারা।
ভবিষ্যৎ রূপরেখা
তবে সম্মেলনের পরে আন্দোলনের কোনও নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। কোনও যৌথ দাবিপত্রও প্রকাশ পায়নি। শুধু একটাই বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। যার রাজনৈতিক ইঙ্গিত এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। সিজেপি দেখিয়ে দিয়েছে, টানা আন্দোলন সরকারকে আলোচনায় বসাতে পারে। এমনকি একজন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতেও বাধ্য হতে হয়। তাই চাপ বজ়ায় রাখতে আপাত-জয়ের পরে থেমে না গিয়ে, তারা এখন সমাজের সব শ্রেণীর বিক্ষুব্ধদের পাশে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গের জন্যও জরুরি
নিট বিতর্কের বড় প্রভাব রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে রাজ্যের নিজস্ব চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা ফেরানোর দাবি জানিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস, বাম ও কংগ্রেস সিজেপির আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রকাশ্যে। এখন সিজেপি যদি কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে হাত মেলায়, তার ঢেউ পশ্চিমবঙ্গেও এসে পড়তে বাধ্য। এমন জাতীয় স্তরের জোট পরিস্থিতির বিচারে রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা হলেও বদলে দিতে পারে। তাই এই রাজ্যের জন্যও দিল্লির এই ঘটনাপ্রবাহে নজর রাখা জরুরি।