যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের না ছাড়লে মঙ্গল থেকেই ফের বিক্ষোভ: চরম হুঁশিয়ারি ককরোচদের

ফের আন্দোলনের পথে CJP (ANI)

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরে সরকারের শুভ বুদ্ধির ভরসায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)। কিন্তু মাত্র দু’দিনের মাথায় ফের চরম সংঘাতের আবহ তৈরি হল কেন্দ্রের সঙ্গে। সংগঠনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তি ও দায়ের হওয়া সব এফআইআর (FIR) প্রত্যাহার করে লিখিত নিশ্চয়তা না দিলে ফের রাস্তায় নামবেন তাঁরা। দিল্লি পুলিশকে (Delhi Police) সরাসরি বার্তা দিয়ে সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি ভাঙা হলে তা লক্ষ লক্ষ তরুণ ভারতীয়ের সঙ্গেই বিশ্বাসভঙ্গ হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলা-আসাম-বিহারে ধরপাকড়ই কাল হল

যন্তরমন্তরে (Jantar Mantar) আন্দোলন থামানোর শর্ত হিসেবে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বিজেপি বা এনডিএ (NDA) শাসিত কোনও রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না। অথচ তার পরেও পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১৬ জনের গ্রেপ্তারি ও সাতটি ফৌজদারি মামলা, আসামে সংহতি জানাতে গিয়ে ছয় জনের গ্রেফতারির অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সংগঠন। বিহারে গুলি চলার ঘটনাকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সম্মিলিত ঘটনাপ্রবাহকেই প্রতিশ্রুতিভঙ্গের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে ককরোচ পার্টি।


সুপ্রিম কোর্টেরও তোপ

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। যন্তরমন্তরে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি অভিযান নিয়ে দায়ের হওয়া এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিছক প্রতিবাদ করছে বলেই কাউকে লাঠিচার্জ করা যায় না। আদালতের এই মন্তব্য আন্দোলনকারীদের নৈতিক অবস্থানকে আরও জোরদার করেছে বলেই মত আইনজীবীদের একাংশের। উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখী মিছিলে পুলিশি কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জে অন্তত দেড়শো জন জখম হন বলে দাবি সংগঠনের, যদিও দিল্লি পুলিশের হিসেবে জখমের সংখ্যা প্রায় ১৮০, যার মধ্যে ১১৮ জনই পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী।

কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি

শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা (JP Nadda) ও জিতেন্দ্র সিংহের (Jitendra Singh) সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বসেই আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিল ককরোচ পার্টি। সেখানে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চার সপ্তাহ পরে শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ফের বৈঠকেরও কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের লিখিত নিশ্চয়তা মেলে কি না, তার উপরেই এখন নির্ভর করছে গোটা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

রাজ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জনের ভবিষ্যৎ এই ঘোষিত সময়সীমার সঙ্গেই সরাসরি জড়িয়ে। মঙ্গলবারের মধ্যে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হলে এবং আন্দোলন ফের শুরু হলে, তার আঁচ বাংলাতেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত রাজ্যের ছাত্র সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই যেভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে, তাতে আগামী কয়েক দিন বাংলার ছাত্র রাজনীতির অভিমুখ অনেকাংশে নির্ভর করছে দিল্লির এই সিদ্ধান্তের উপরেই।