অরুণাচল প্রদেশের শি-ইওমি জেলার প্রত্যন্ত পাপিক্রুং গ্রামে সরকারি আবাসিক স্কুলের হস্টেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র। গুরুতর আহত হয়েছে আরও তিন পড়ুয়া। শনিবার গভীর রাতে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যেই পুড়িয়ে ছাই করে দেয় গোটা ছাত্রাবাস।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ছাত্রের নাম তাশি জেমপেন। আহত তিন ছাত্র— লুখি পুজেন (৮), তানু পুজেন (৯) এবং তায়ি পুজেন (১১)—কে প্রথমে ৮৫ কিমি দূরের তাতো জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য পশ্চিম সিয়াং জেলার আলো শহরের জোনাল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে তাঁদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে।
ঘটনার পরেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে যেহেতু দুর্গম গ্রামটিতে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি, তাই বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে অন্যান্য কারণও খতিয়ে দেখছেন।
অরুণাচলের শিক্ষামন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক পাসাং দরজি সোনা দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমি শোকাহত। আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গত পরিবারগুলির পাশে সরকার সর্বতোভাবে থাকবে।” জেলা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রত্যন্ত গ্রামটির স্কুল চত্বর ও আশপাশের এলাকায়।