অঅজিত পাওয়ারের প্রয়াণে সুপ্রিম কোর্টে তত্ত্বাবধান তদন্তের দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় আচমকাই ভেঙে পড়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিমান।ডিজিসিএ-র সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ বিমানে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে রাজনৈতিক মহলে। দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবিও তোলেন তিনি। এসআইআর ইস্যুতে বুধবার দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল বাংলার প্রশাসনিক প্রধানের। এই মর্মান্তিক ঘটনার ফলে দিল্লি যাওয়া স্থগিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দিল্লি যেতে পারেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঘটনার পরেই সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত এবং স্তম্ভিত। আজ সকালে বারামতীতে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সহযাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে। এ এক বিরাট ক্ষতি।‘   অজিত পওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ার এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন মমতা। পাশাপাশি এই ঘটনায় যথাযথ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখছেন, ‘এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।‘


বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি সূত্রে জানতে পেরেছি, অজিত পওয়ার বিজেপি ছাড়তে চাইছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত সন্দেহজনক।‘ যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম বা তথ্য প্রকাশ করেননি, তবে তাঁর দাবি, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে হবে। সেই কারণেই তিনি কেন্দ্রীয় কোনও সংস্থার নয়, শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত চান বলে স্পষ্ট করে দেন।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির উপর আস্থা নেই বলেও সরাসরি অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমি কোনও এজেন্সির তদন্ত চাই না। এজেন্সিগুলো সব কেন্দ্রের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।‘ একের পর এক বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনে মমতা বলেন, ‘দেশের মানুষের কোনও সুরক্ষা নেই। তাই প্রকৃত কারণ সামনে আসা দরকার।‘ মমতা আরও বলেন, ‘আমি দেখেছিলাম, কিছু রিপোর্টে বলা হচ্ছিল তিনি হয়তো নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। এই প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে আরও বেশি উদ্বেগের।‘

মুখ্যমন্তরীর পাশাপাশি অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও কথা হয় ফডনবিশের।  সমাজমাধ্যমে অজিত পাওয়ারকে জননেতা বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘অজিত পাওয়ার জননেতা ছিলেন। তৃণমূল স্তর পর্যন্ত তাঁর যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় তাঁর সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা থাকত। পরিশ্রমী এবং সর্বজন সম্মানিত অজিতের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।‘ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরে নামার সময় ভেঙে পড়ে অজিতের বিমানটি। ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের জন্য মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের মহাগঠবন্ধন সরকারের অন্যতম শরিক তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত। তিনি ছাড়াও বিমানে ছিলেন তাঁর দু’জন নিরাপত্তারক্ষী, একজন পাইলট এবং ফার্স্ট অফিসার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সকলেই অজিতে মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। রাজ্যসভার সাংসদ তথা উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত অজিতের মৃত্যুকে মহারাষ্ট্রের ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অজিত ছাড়া মহারাষ্ট্রের রাজনীতি অপূর্ণ।