ছত্তিশগড়ের কারেগুটা পাহাড়ে মাওবাদীদের ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, আহত ১১ জন জওয়ান

ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের বিজাপুর–তেলেঙ্গানা সীমান্তের কাছে কারেগুটা পাহাড় এলাকায় মাওবাদীদের পুঁতে রাখা একাধিক ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। সোমবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

রবিবার এই বিস্ফোরণগুলি ঘটে ছত্তিশগড় পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর এলিট কোবরা ইউনিটের যৌথ মাওবাদী-বিরোধী অভিযানের সময়। আহতদের মধ্যে ১০ জন ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডের সদস্য এবং একজন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর কোবরা ইউনিটের জওয়ান বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর দ্রুত সকল আহত জওয়ানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে সকলের অবস্থাই স্থিতিশীল। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। তবে তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।


কারেগুটা পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদীদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। রবিবার সকালে প্রথম বিস্ফোরণের পর দুপুর পর্যন্ত আরও কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশের ধারণা, প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগে নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তাবাহিনী ওই এলাকায় বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। মাওবাদীদের পুঁতে রাখা আরও কোনও বিস্ফোরক থাকলে তা নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ছত্তিশগড়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ বাহিনীর মাওবাদী-বিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে, যার ফলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির ওপর চাপ বাড়ছে।

পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬-এ কারেগুটা পাহাড়ে সদ্য স্থাপিত একটি নিরাপত্তা শিবিরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড় একসময় মাওবাদীদের মূল ঘাঁটি ছিল। সেখানে তিরঙ্গা উত্তোলন শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং হিংসার ওপর গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের জয়ের প্রতীক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।