রামমন্দিরের প্রণামী তছরুপ কাণ্ডে গ্রেপ্তার ৮, তদন্তের মধ্যেই ইস্তফা চম্পৎ রাইয়ের

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ ও মূল্যবান অলঙ্কার ও রত্ন তছরুপের অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপের পরই ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেন। চম্পৎ রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই তাঁরা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

সিটের সুপারিশের ভিত্তিতে ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য কৃষ্ণ মোহন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের।  রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, অবিনাশ শুক্ল, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি করা সম্পত্তি গোপন রাখা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি দমন আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে অন্তত ৭০ বার অনুদানের অর্থ চুরি করার চেষ্টা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে একাধিকবার মনীশ কুমার যাদবকে দেখা গেলেও তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে অনুদানের হিসাব, আর্থিক নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং তদারকিতে একাধিক গাফিলতির উল্লেখ মিলেছে। তদন্তকারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অনুদান ব্যবস্থায় এই অনিয়ম চলছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


সিটের প্রাথমিক রিপোর্টে মোট ১৭ জনকে দায়ী করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড়শো সেবাদারের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এসেছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মন্দির প্রতিষ্ঠার পর তাঁদের অনেকের সম্পত্তি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এই তালিকায় চম্পৎ রাইয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফুলকান্ত মিশ্রের নামও রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া রামশঙ্কর যাদব একসময় চম্পৎ রাইয়ের গাড়ির চালক ছিলেন। পরে তাঁকে মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার কাজে যুক্ত করা হয়। অন্যদিকে লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র অনুদানের নগদ অর্থ গণনা এবং মূল্যবান সামগ্রী নথিভুক্ত করার দায়িত্বে ছিলেন।

অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, অযোধ্যা কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক। ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে কোনও ধরনের প্রতারণা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, সনাতন ধর্মের মর্যাদা রক্ষার জন্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।