‘ভাড়াটে যোদ্ধা’ এবং জঙ্গি প্রশিক্ষক হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁদের। এবার ৬ মাসের তদন্ত শেষে সেই ৭ জন বিদেশির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। কিন্তু চমক হল চার্জশিটে তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ-র কোনও ধারা রাখা হয়নি। বরং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের অধীনে তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। ফলে শুরুতে সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করলেও পরে ইউএপিএ বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মার এজলাসে চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইক এবং ৬ জন ইউক্রেনের নাগরিক। গত ১২-১৩ মার্চ কলকাতা, লখনউ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এফআইআরে ম্যাথু-সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। যা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছিল, পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে ওই বিদেশিরা আসাম হয়ে মিজোরামে যান। পরে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারে গিয়ে ভারতীয় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দেন। ড্রোন হামলা, সীমান্ত পারাপার এবং সামরিক ঘাঁটিতে হামলার কৌশল শেখানোর অভিযোগও ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। ভারতে ফেরার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে চার্জশিটে ইউএপিএ না থাকায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, মার্কিন নাগরিক ম্যাথুর বিরুদ্ধে প্রথমে গুরুতর সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু পরে তা কেন চার্জশিটে নেই? এর পিছনে কোনও আন্তর্জাতিক চাপ কাজ করেছে কি না সেই প্রশ্নও উঠেছে। যদিও এর কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশ অমান্য, নয়ডার ম্যাজিস্ট্রেটকে তোপ শীর্ষ আদালতের
এনআইএ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়া হতে পারে। তখন ইউএপিএ-র ধারাও যুক্ত হতে পারে। ম্যাথু বর্তমানে তিহাড় জেলে বন্দি। তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য তাঁর পরিবার মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও জানা গিয়েছে।