ইরানে যুদ্ধের মধ্যে অশান্তির আঁচ করে রাজ্যগুলিকে চিঠি কেন্দ্রের

আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে হামলার চালিয়েছে ইরানে। সেই যুদ্ধের আঁচ পড়তে পারে ভারতেও। সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিয়া মুসলিম সংগঠনগুলির পাশাপাশি ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা আল কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিও এই সময়ে সক্রিয় হচ্ছে বলে জানিয়ে সব রাজ্যকে সতর্ক করল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে পাঠানো চিঠিতে রাজ্য সরকারকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের সমর্থনে কেউ উস্কানিমূলক মন্তব্য বা বক্তৃতা করলে তাঁদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। যে কোনও পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক অশান্তি এড়ানোই কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য।

সূত্রের খবর, গত শনিবার হামলার দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দপ্তর থেকে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানপন্থী উগ্র ধর্মপ্রচারক বা উস্কানিমূলক বক্তব্যদানকারীদের উপর নজর রাখতে হবে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দেশের সমস্ত নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে সতর্ক করেছে শাহের মন্ত্রক। পাশাপাশি, ভারতে থাকা ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার দূতাবাস ও কনসুলেটেও নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আইএস বা আল কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি অস্থিরতা তৈরি করতে সচেষ্ট হতে পারে। সরকারি সূত্রের আরও দাবি, দেশের যে সব জায়গায় বিদেশিরা ঘুরতে যান, যেখানে যেখানে ইহুদিদের বাস, সেই সব জায়গাতেও নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে।  পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য প্রশাসনকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামেন। কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু–র সঙ্গে কথাও বলেছেন।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী পাকিস্তানে খামেনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। করাচিতে মার্কিন উপদূতাবাসে হামলার চেষ্টা হলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১০ জন নিহত হন। ইসলামাবাদে পৃথক ঘটনায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।