বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দেশাত্ববোধক গান বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তি উদযাপন চলছে দেশজুড়ে। জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন অধিনায়ক’-এর মতো বন্দে মাতরমকেও সমমর্যাদা দিতে চাইছে কেন্দ্র। এ নিয়ে চলতি মাসেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট মন্ত্রকে নেতৃত্বে উচ্চ স্তরের একটিও বৈঠকও হয়েছে। অন্য মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছিল বলে খবর। জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কিছু আইনি নিয়মকানুন নির্দিষ্ট করা আছে। জাতীয় গানের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য কি না বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
১৮৭৫ সালে লেখা এই গান ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরমের কথা ও ভাবনা। জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি দেশের সংবিধান এই গানকেও সমান মর্যাদা এবং স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এটি পাঠ করা বা গাওয়ার জন্য আলাদা করে কোনও শিষ্টাচার, আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তা চালু করা প্রয়োজন কি না, ভেবে দেখছে কেন্দ্র।
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর উপলক্ষে টানা এক বছর ধরে উদ্যাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে নভেম্বরে, দ্বিতীয় ধাপ চলতি মাসে হওয়ার কথা। তৃতীয় এবং শেষ ধাপের উদ্যাপন হবে যথাক্রমে ২০২৬ সালের আগস্ট এবং নভেম্বরে। জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসেছে বিজেপি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তারা এই গানের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাতিল করার অভিযোগও তুলেছে।
সূত্রের খবর, দিল্লির বৈঠকের আয়োজন করেছিল অমিত শাহের মন্ত্রকই। তাতে যোগ দিয়েছিলেন একাধিক সিনিয়র আধিকারিক, অন্যান্য মন্ত্রকের কর্তাব্যক্তিরা। কোন পরিস্থিতিতে বন্দে মাতরম গাওয়া উচিত, জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গেই এই গানও গাওয়া উচিত কি না, জাতীয় সঙ্গীতের মতো এই গানের অবমাননাতেও শাস্তি নির্ধারিত হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকারি ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।