স্টারলিঙ্ককে ভারতীয় বাজারে ঢুকতে কয়েকটি গোষ্ঠী বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ ইলন মাস্কের (Elon Musk) । যদিও তাঁর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিল দিল্লি। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা-সহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য ভারতে একটি ন্যায্য এবং বৈষম্যহীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনও সংস্থার ক্ষেত্রে আলাদা করে নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র। যদিও বিবৃতিতে স্টারলিঙ্ক (Starlink) বা মাস্কের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা! কোন গোষ্ঠীর নাম না করেই বিস্ফোরক অভিযোগ মাস্কের
বুধবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে মাস্ক (Elon Musk) দাবি করেন, কয়েকটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে কোন গোষ্ঠীর কথা তিনি বলছেন তা জানাননি মাস্ক (Elon Musk)। হেঁয়ালির সুরে তিনি লেখেন, ‘আপনারাই বুঝে নিন কারা বাধা দিচ্ছে।’ এই ধরনের পদক্ষেপকে ‘ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরে আর একটি পোস্টে মাস্ক জানান, যাঁরা বর্তমান বাজারদরে ইন্টারনেট পরিষেবা নিতে পারছেন না বা এখনও কোনও পরিষেবাই পাননি, তাঁদের জন্য কম খরচে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে চায় স্টারলিঙ্ক (Starlink)।
মাস্কের অভিযোগের পরেই বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমাজমাধ্যমে ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং এই ব্যবস্থার ‘বৈষম্যমূলক প্রয়োগ’ হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। লাইসেন্স পাওয়া প্রতিটি সংস্থাকেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। গ্রাহক এবং তাঁদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হয়।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে পড়ুয়ার হাত উড়ে যাওয়ার জের, ফ্রান্সে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি সংস্থা স্যাটেলাইট-ভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবার লাইসেন্স পেয়েছে—স্টারলিঙ্ক, জিয়ো স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব। তিন সংস্থারই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত যাচাইপর্ব চলছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভারতের বাজারে ঢোকার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর গত বছরের জুনে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেয়েছিল স্টারলিঙ্ক। এয়ারটেল এবং জিয়োর সঙ্গেও ইতিমধ্যে সংস্থাটির চুক্তি হয়েছে। তবে সরকারি অনুমোদন এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করতে পারবে না স্টারলিঙ্ক। ফলে পরিষেবা চালু হতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করেই মাস্কের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=Z1qOVbFWonz3DKO8″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>