রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র সমমর্যাদায় আনার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রীসভা ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’ সংশোধনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আইনটির ৩ নং ধারা সংশোধনের ফলে, বাংলার কিংবদন্তি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সঙ্গীতের সমতুল্য মর্যাদা লাভ করবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রিভেনশন অফ ইনসালটস্ টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট বা ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’ এর সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সংশোধন কার্যকর হলে জাতীয় সঙ্গীতের মতোই ‘বন্দেমাতরম’-এর অবমাননা বা গাওয়ার সময় বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে এই আইনের প্রয়োগ রয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ‘বন্দেমাতরম’।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দিলে অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে, তাঁকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। একই ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাঁকে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে এর আগেও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিল। সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনসমাবেশে এই গান গাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। এমনকি জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে একসঙ্গে পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘বন্দেমাতরম’ আগে গাওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।
গত ডিসেম্বরে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষ উপলক্ষে সংসদে একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা দেওয়ার দাবি উত্থাপন করা হয়।কিন্তু ‘বন্দে মাতরম্’-এর ৬টি স্তবক বাধ্যতামূলকভাবে গাওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে ত্রিবর্ণের অসম্মানজনক ব্যবহার, যেমন—কোমরের নিচে এটি পরিধান করা কিংবা রুমাল, বালিশ ইত্যাদিতে এর ছাপ ছাপানো নিষিদ্ধ করার জন্য আইনটি সংশোধন করা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পর অনুষ্ঠিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রস্তাব পাশ হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।