এলপিজি ঘাটতি নিয়ে জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশজুড়ে ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডারের দৈনিক সরবরাহ দ্বিগুণ করা হচ্ছে। মূলত পরিযায়ী শ্রমিক এবং স্বল্প আয়ের মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল বিপণন সংস্থাগুলির সহায়তায় রাজ্য সরকার এবং খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মাধ্যমে এই ছোট সিলিন্ডারগুলি বিতরণ করা হবে। ৫ কেজির এই সিলিন্ডারগুলি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের কাউন্টার থেকেই বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে কেনা সম্ভব। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের মতো এতে কোনও ভর্তুকি নেই, ফলে বাজারদরেই তা কিনতে হবে। তবে এই সিলিন্ডার কিনতে ঠিকানার প্রমাণপত্র প্রয়োজন হয় না, যা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সত্ত্বেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম জানিয়েছে, এলপিজি ও অটোমোটিভ জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, গৃহস্থালি এলপিজি ও পাইপড ন্যাচারাল গ্যাসের সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জরুরি পরিষেবাগুলিকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নজর দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। মার্চ মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪০০-রও বেশি শো-কজ নোটিস জারি হয়েছে এবং ৩৬টি ডিলারশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
চাহিদা সামাল দিতে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ আপাতত ৭০ শতাংশে সীমিত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ছোট সিলিন্ডারের ব্যবহার বাড়িয়ে সামগ্রিক চাপ কমানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক স্তরে নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্র।