নিট ইস্যুতে সংসদে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র, তবে শর্ত মানবে না সরকার

Image: ANI

নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে সংসদে আলোচনার জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা কোনও শর্তসাপেক্ষে হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার লোকসভায় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, বিরোধী দল যে দিন, যে সময়ে এবং যতক্ষণ আলোচনা করতে চাইবে, সরকার তাতেই রাজি। এমনকি প্রয়োজন হলে ২ দিন ধরেও আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আলোচনার আগে কোনও পূর্বশর্ত চাপানো যাবে না।

লোকসভায় রিজিজু বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আলোচনার দিনক্ষণ ও সময়সীমা বিরোধীরাই ঠিক করুক। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মতো শর্ত দিয়ে আলোচনা আটকে রাখা ঠিক নয়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা শর্তের আড়ালে আলোচনা এড়ানোর চেষ্টা করছে।

রিজিজু বলেন, ‘আপনারা যতক্ষণ খুশি কথা বলুন, সরকারও নিজেদের বক্তব্য রাখবে। কিন্তু অজুহাত বা শর্ত দিয়ে আলোচনা থেকে দূরে সরে যাবেন না। তাহলে মানুষ বুঝে যাবে আপনারা আসলে বিতর্ক চান না।’


এদিনও নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তুমুল হৈচৈ হওয়ার জেরে বারবার মুলতবি হয়ে যায় লোকসভার অধিবেশন। প্রথমে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং পরে ফের অধিবেশন শুরু হতেই হট্টগোলের কারণে তা দুপুর ২টো পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয়। প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালেও বিরোধী সাংসদেরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে বিক্ষোভ করেন।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সদস্যদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর পরেই যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তিনি জানান, সরকারও আলোচনায় রাজি এবং তিনি নিজেও এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন।

নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে টানা চতুর্থ দিনের মতো সংসদের কাজ ব্যাহত হয়। এদিন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, তৃণমূলের সৌগত রায় ও মহুয়া মৈত্র-সহ বিরোধী নেতারা স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন, নিট প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। তিনি বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখাই সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই সমাজমাধ্যমে তিন দফা দাবি জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, প্রথমত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরাতে হবে, দ্বিতীয়ত কেন্দ্রকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তৃতীয়ত আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। পাল্টা এনডিএ-র সাংসদরাও বিক্ষোভে সামিল হয়ে অভিযোগ করেন, বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের যুবসমাজকে উসকানি দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, শুধু নিট নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে হওয়া সব পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়েই সংসদে বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত।