দেশে ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস-সহ গুরুতর রোগের বাড়বাড়ন্ত এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় বাজেট একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। জীবনদায়ী ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উপর আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তিনি। এর ফলে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই ওষুধগুলির দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘বায়োফার্মা শক্তি’ নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হবে, যার লক্ষ্য ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও অটো-ইমিউন রোগের চিকিৎসায় কার্যকরী ওষুধের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো। তাঁর কথায়, এই প্রকল্প এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে যেখানে দেশেই উন্নতমানের ওষুধ তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষ কম খরচে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। বিদেশ থেকে আমদানি করা দামী ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আওতায় চিকিৎসাক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বায়োফার্মা খাতে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আগামী ৫ বছরে ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্পে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করেছেন সীতারামন। কোভিড-পরবর্তী বিশ্বে ভাইরাস-জনিত রোগের বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নত প্রযুক্তি, ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপ বলে জানান তিনি।
এই প্রকল্পের অধীনে ৩টি নতুন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ অর্থাত এনআইপিইআর গড়ে তোলা হবে এবং আরও ৭টি প্রতিষ্ঠানকে উন্নত করা হবে। পাশাপাশি, দেশজ ওষুধ বাজারে আনার আগে পরীক্ষার জন্য ১ হাজার স্বীকৃত ক্লিনিকাল ট্রায়াল সাইটের একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বাজেটের পথপ্রদর্শক নীতি হিসেবে তিনটি ‘কর্তব্য’-এর কথা উল্লেখ করেন—অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যখাতে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের চিকিৎসায় ভারতীয়রা বছরে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেন। তাই দেশীয় ওষুধ উৎপাদন বাড়লে চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও আয়ুষ ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। তিনটি নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ স্থাপন, আয়ুষ ফার্মেসি ও ওষুধ পরীক্ষাগারগুলিকে আপগ্রেড এবং জামনগরে অবস্থিত হু-এর ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন’ উন্নত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। আয়ুর্বেদ ও যোগব্যায়ামকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে ভারতকে ‘গ্লোবাল ওয়েলনেস হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, দেশীয় উৎপাদনে জোর এবং গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন—এই তিন দিকেই একযোগে নজর দেওয়ার ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।