ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। ফলে ভারতে পেট্রোপণ্যের দাম বাড়বে কি না, মজুত ঘাটতি দেখা দেবে কি না, এমনকি কালোবাজারির আশঙ্কাও তৈরি হবে কি না—এই প্রশ্নগুলো গত কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সূত্রের খবর, এই উদ্বেগ কমাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতবাসীকে আশ্বস্ত করতে চলেছে যে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দেশের অভ্যন্তরে তেল ও গ্যাসের দাম যাতে হঠাৎ বেড়ে না যায়, সে বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি সাময়িক ছাড়ও দিয়েছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত পেট্রোপণ্যের দাম নিয়ে কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলের সূত্রে জানা যাচ্ছে, দেশীয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। নয়াদিল্লি বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ভারতের জন্য তেল ও অন্যান্য শক্তিসম্পদের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে। কেন্দ্রের দাবি, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আপাতত তেল আমদানি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার তেমন কারণ নেই।
উল্লেখ্য, গত ছয় দিনের সংঘর্ষের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এর বড় কারণ হল গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজে জাহাজ চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হওয়া। ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার প্রায় অর্ধেক এই প্রণালী দিয়েই আসে। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল ভারতের হাতে পৌঁছতে চলেছে। আগামী এক মাসে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৩০ দিনের ছাড়ের ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল কিনতে পারবে ভারত। সরকারের আশা, এর ফলে দেশীয় বাজারে পেট্রোপণ্য নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমবে। যদিও সম্প্রতি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের দাম বাড়বে কি না, সেই প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি মেটেনি।