হরমুজ প্রণালীতে গুজরাতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা

হরমুজ প্রণালীতে গুজরাতগামী জাহাজে হামলার পরেই অগ্নিকাণ্ড।

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে গুজরাতমুখী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘ময়ূরী নারী ব্যাঙ্কক’ নামের ওই জাহাজটি গুজরাতের কান্ডালা বন্দরের দিকে আসছিল। হামলার পর জাহাজটির একটি অংশে আগুন ধরে যায়। ফলে সেটি মাঝসমুদ্রে থেমে যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে মোট ২৩ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনকে উদ্ধার করেছে ওমানের নৌবাহিনী। তবে তিন জন তখনও জাহাজের ভিতরে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা নিরাপদে আছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকারী দল তাঁদের উদ্ধারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যাতায়াতের উপর নজরদারি করা ব্রিটেনের একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটির উপর হামলা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আকাশপথ থেকে আঘাত হানা হয়েছে। তবে কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।


হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ওমানের নৌবাহিনী। জাহাজটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রথমে ২০ জন নাবিককে নিরাপদে বার করে আনা হয়। পরে জাহাজের ভিতরে থাকা বাকি তিন জনকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, জাহাজটির মালিকানা রয়েছে তাইল্যান্ডের একটি বাণিজ্যিক সংস্থার হাতে। হামলার সময় পণ্য বোঝাই অবস্থায় জাহাজটির মোট ওজন ছিল প্রায় ৩০ হাজার টন।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খলিফা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। সেখান থেকে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর পেরিয়ে গুজরাতের কান্ডালা বন্দরে পৌঁছনোর কথা ছিল। তবে জাহাজটিতে ঠিক কী ধরনের পণ্য ছিল, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের বিষয়। এই পথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও নানা পণ্য পরিবহণ হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্যের উপর পড়তে পারে।